ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের অন্য ৭টি বিভাগীয় শহরে 'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ‘খ' ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ সংশ্লিষ্টরা কলা ভবনের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন ও অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। যথাযথভাবে নিয়মনীতি অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও অশুভ চক্র প্রতিহত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করেছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা ও অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জনসমাগম ও পরিবেশ দূষণ না করা এবং যানবাহন চলাচল সীমিত রাখার জন্য অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে ও স্বাবলম্বী হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, এ বছর ‘খ' ইউনিটে ১ হাজার ৭৮৮ টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৮৭ জন ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে 'কটূক্তির'  জেরে বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন অভিভাবক-ভর্তিচ্ছুরা। শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের কলা অনুষদভুক্ত 'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও, ছাত্রদলের কর্মসূচি ভর্তিচ্ছুদের ফুল ও কলম দেওয়ার মধ্যেই সীমিত ছিল।

ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ


ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শনিবার সকাল থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থী সহায়তা ও তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অভিভাবক ছাউনি’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে আগত অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা ও পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচিতির জন্য ক্যাম্পাসে দিক নির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করাসহ সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োজিত রয়েছে সংগঠনটির কর্মীরা। শিক্ষার্থীদের পরিবহনের সুবিধার্থে বিনামূল্যে ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিসের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছুদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের কর্মীদের।

ঢাবিতে ভর্তিচ্ছুদের সুপেয় পানি, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অথচ পরীক্ষা কেন্দ্রে নেয়ার অনুপযোগী জিনিসপত্র রাখা, শিক্ষার্থী ও তাদের সাথে আগত অভিভাবকের ব্যবহারের জন্য 'মোবাইল টয়লেটের’ব্যবস্থা করা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হুইলচেয়ার ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ করা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ‘প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র’গঠন করা ও মাস্ক, কলম ও আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সংগঠনটি।  অন্যদিকে, প্রয়োজন সাপেক্ষে হল ছাত্রলীগ পরীক্ষার পূর্ব রাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থাও করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নেওয়া কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সত্য-সুন্দর-ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ এই ক্যাম্পাসে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার অসাধারণ আবহ তৈরি হয়। তারুণ্যের এই উৎসবকে মুখরিত, নান্দনিক, সহজ ও সুপরিকল্পিত করতে বদ্ধ পরিকর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ক্যাম্পাসে আসলে ছাত্রলীগের আচরণ কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগ  সনজিত বলেন, যারা 'পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার'- স্লোগান দেয়, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে, যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়, এ ধরণের ছাত্রসংগঠনকে সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ বর্জন করেছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের পথে-ঘাটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গণপিটুনি খেয়েছে। যদি তারা এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তাহলে, তারা আমাদের 'চণ্ডীরূপ' দেখবে। সে ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে আমরা প্রস্তুত নই।

ফুল-কলম বিতরণেই সীমিত ছাত্রদলের কর্মসূচি


এদিকে, 'খ' ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে শনিবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল ছাত্রদল। তবে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়নি এবং ছাত্রলীগও তাদের কোনো বাধা দেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলকে পাশাপাশি অবস্থানে থেকে ভর্তিচ্ছুদের ফুল-কলম দিয়ে বরণ করে নিতে দেখা গেছে। এর বেশি ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়নি।

ঢাবিতে ভর্তিচ্ছুদের ফুল দিয়ে উৎসাহ দেয় ছাত্রদলের কর্মীরা

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক আক্তার হোসেন সমকালকে বলেন, পরীক্ষা শেষে আমরা কার্জন হলের ফটকে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের ফুল এবং কলম দিয়ে তাদের উৎসাহ দিয়েছি।

এর বাইরে ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় তাদের অন্য কোনো কর্মকাণ্ড কেন লক্ষ্য করা যায়নি?- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সোয়া দশটার দিকে ক্যাম্পাসে এসেছি। আমরা তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছি, অনেক পরীক্ষার্থীকে আমাদের কর্মীরা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেও দিয়ে এসেছে। তবে ভর্তিচ্ছুদের জন্যে পানির ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও তা করতে পারিনি।  এছাড়া আমরা কোনো ব্যানার নিয়ে বসতে পারিনি।

ক্যাম্পাসে প্রবেশে কোনো ধরনের  বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যখন কার্জন হলের দিকে যাই, তখন শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম আমাদের চলে যেতে বলেন। তখন আমরা তাকে বলি, 'আপনারা আপনাদের কাজ করেন, আমরাও আমাদের কাজ করি।' এরপর আর কোনো ঝামেলা হয়নি। পুলিশও আমাদের বাধা দেয়নি। গতকালের পর আজকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নমনীয় ছিলো।