ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় শাহাবুদ্দিন শিহাব নামে এক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন। পরে তাকে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের অভিযোগ, ছাত্রলীগের হামলায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, তারা মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। হাইকোর্ট মোড় পার হওয়ার সময় ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১৫০ নেতা-কর্মী অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করেন। ছাত্রলীগের হামলায় তিনি মাথায় আঘাত পান। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি দৌড়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢোকেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, শাহাবুদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার মাথার আঘাত গুরুতর।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে হাইকোর্ট এলাকার আশপাশে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে তারা মিছিল বের করেন। মিছিলটি হাইকোর্ট মোড় হয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে অগ্রসর হয়। দোয়েল চত্বর এলাকায় আগে থেকে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদলের মিছিলটি দোয়েল চত্বর এলাকায় ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে।

ছাত্রদল প্রথমে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদল কিছুদূর অগ্রসর হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন। ছাত্রলীগের পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রদল পিছু হটে।

সংঘর্ষের সময় শোনা যায় গুলির শব্দ

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় হাইকোর্ট এলাকায় শোনা গেছে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ।

ছাত্রদল দাবি করেছে আগ্নেয়াস্ত্র ছাত্রলীগ ব্যবহার করেছে। তবে ছাত্রলীগ বলছে, এমন করার সুযোগ নেই। 

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হটাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হেলমেট পরে চাপাতি, দা, লাঠি, রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।