ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ছাত্রদল মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষের হাতেই লাঠিসোঁটা দেখা যায়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

হামলায় সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের অন্তত দুইজন নেতা আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে আহত নেতাদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে। ওই নেতা হলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম। অন্য একজনের নাম এখনো জানা যায়নি।

হামলা চলাকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক আবির আহমেদকে মেরে তার ফোন কেড়ে নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, লাইভ করার সময় এক সাংবাদিককে 'বিএনপির পেইজ থেকে লাইভ করতেছে' বলে উল্লেখ করে তাকে ধাওয়া করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন রহমান।

তখন ওই সাংবাদিক দৌড়ে পুলিশের কাছে গেলে তাকে মারধর করার সুযোগ পাননি। ওই সাংবাদিক এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন। বর্তমানে হাইকোর্ট এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, হাইকোর্টের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদদীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিউল সুমন এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান করছেন।

এর আগে, সকাল থেকেই ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ওই সময় ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসসংলগ্ন হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার আগে থেকেই বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের প্রবেশ প্রতিহত করতে লাঠিসোঁটা, স্ট্যাম্প হাতে মহড়া দিচ্ছে। অনেককে বাইকে করে শোডাউন দিতে দেখা গেছে।

এ সময় তাদের ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, ভিসি চত্বর ও পলাশী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে অবস্থানে ছিল।

তবে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ। দলটির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে পুরো ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে হাইকোর্ট এলাকার আশপাশে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মিছিল বের করেন। হাইকোর্ট মোড় হয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে যেতে থাকলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদলের মিছিলটি দোয়েল চত্বর এলাকায় ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় ছাত্রদল প্রথমে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদল কিছুদূর অগ্রসর হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন। ছাত্রলীগের পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রদল পিছু হটে। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক ও রড দেখা গেছে। সেখানে গুলির শব্দও শোনা যায়। একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে।