বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সঙ্গে বালি উঠে আসার পর গ্যাস সংকট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সংকট পুরো কাটতে আরও দুদিন লাগতে পারে। 

পেট্রোবাংলার কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, শনিবারের পর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বালি আসায় বন্ধ হওয়া শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ছয়টি কূপের মধ্যে গতকাল মঙ্গবার পর্যন্ত চারটি চালু হয়েছে। বুধবার আরেকটি চালু হতে পারে। গতকাল পর্যন্ত বিবিয়ানা থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া গেছে। আংশিক বন্ধ হওয়ার আগে গত শনিবার ক্ষেত্রটি থেকে ১২৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করত শেভরন।

পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সঙ্কট দেখা গেছে। সকালের দিকে গ্যাস থাকলেও দুপুরের পর চাপ কমে যায়। ফলে ইফতার তৈরিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেক পরিবারকে। 

রাজধানীর দক্ষিণ মুগদার গৃহিণী কাজরী জামান বলেন, 'প্রথম দুই রোজার কষ্টের কথা মাথায় রেখে আজকে (মঙ্গলবার) সকালেই ইফতার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করি। দুপুরের মধ্যে অর্ধেক রান্না সম্পন্ন হয়। এরপর গ্যাসের চাপ এত কমে যায় যে, চুলা জ্বলে না বললেই চলে। ফলে ইলেক্ট্রিক ওভেনে বাকি রান্না করতে হয়েছে।

এদিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গ্যাসের এই সংকটকালীন সময়ে 'ধৈর্য ধারণ করায়' গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

তিনি লিখেছেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জরুরি মেরামতের জন্য কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হয়েছিল গত দু'দিন। প্রকৌশলীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এ সংকট কাটতে শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সমস্যা দেখা দেওয়ায় যা ৮০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছিল।

গত শনিবার রাতে বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে হঠাৎ বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে কূপগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এর প্রভাবে রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানীসহ দেশের এক বড় অংশে গ্যাসের চরম সংকট দেখা দেয়। প্রথম দুই রোজায় রাজধানীর বেশিরভাগ ঘরে চুলা জ্বলেনি।

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, গ্যাস সংকটের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। চারটি কূপ চালু হয়েছে। বুধবার আরেকটি কূপ চালু হতে পারে। ৭/৮ তারিখ এলএনজির সরবরাহ বাড়বে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে। ফলে গত দু'দিন ধরে চলা লোডশেডিংও কমে এসেছে বলে জানা গেছে।