দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। চলমান পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান।

তিনি সমকালকে বলেন, আমরা সরকারি প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা চলছে শিঘ্রই আমাদের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০টি বিভাগে পরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মোছা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটা বিভাগের কোনো না কোনো বর্ষের পরীক্ষা চলছে। এ ছাড়া অনেক বিভাগে মৌখিক পরীক্ষাও রয়েছে।

দেশের অনান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা নিলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পরীক্ষার কোনো নীতিমালা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সমকালকে বলেন, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য যে সব সরাঞ্জাম প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেটা নেই। শিক্ষকদেরও কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এ ছাড়া এ বিষয়ে একাডেমিক কাউনসিলের একটি সভায় অধিকাংশ শিক্ষক অনলাই পরীক্ষার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এই কারণে অনলাইন পরীক্ষার কোনো নীতিমালাই হয়নি।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষর্থী আহম্মেদ সুমন সমকালকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০০ জনের সমাবেশ আয়োজন করা যাবে। এমনিতেই যেখানে আমাদের জীবন বিষিয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দুই বছর পর পরীক্ষায় বসেছি, মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাকি আছে। এখন যেন কিছুতেই পরীক্ষা স্থগিত করা না হয় সেই দাবি জানাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হোক।’

সমাজতন্ত্র বিভাগের মার্স্টাসের এক শিক্ষার্থী সমকালকে বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই দুই বছর শিক্ষাজীবন থেকে নেই হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পরে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ করে চাকরির পড়াশোনার প্রস্তুতি নেবো ভেবেছিলাম। আজ সরকারি প্রজ্ঞাপন দেখলাম দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি যেন আমাদের বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেয়। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষাগুলো দিতে চাই।