বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দলের চেহারাটাই বদলে গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ছয় নবীন। পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কোচিং স্টাফসহ আরও অনেক কিছুতেই। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে কি পরিবর্তন আসবে? নাকি আগের মতো মাইনফিল্ডের দেখা মিলবে!

বিশ্বকাপের আগে মিরপুরে সিরিজ হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দুবাইয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয়। বিষয়টি নিয়ে এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা রীতিমতো ব্যঙ্গবিদ্রূপে মেতে উঠেছিলেন। সেই বিদ্রূপে কিছুটা হলেও টনক নড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সাময়িক সাফল্যের রেসিপি থেকে সরে এ সিরিজে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কারণ ট্রিপিক্যাল মিরপুরের উইকেটে ভালো ব্যাটিং করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতে বরং খেলার মানের অবনমন ঘটে। ফলাফল বিশ্বকাপে দেখা গেছে। চলতি বছর এখানে প্রথমে ব্যাটিং করা দলগুলোর গড় স্কোর ১১৯ রান। যদিও গত দশ বছরে সেটা ছিল ১৫২ রান। আর গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি২০ সিরিজে এখানে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৩১ রান। মাস খানেক পর নিউজিল্যান্ড এক ম্যাচে ১৬১ রান করলেও এ সিরিজে তিন ম্যাচে একশর নিচে স্কোর ছিল। সে ভয়ানক উইকেট এবার দেখা যাবে না বলেই বিসিবি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম অবশ্য এখানে খুব বেশি রান আশা করছেন না। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাবর সরাসরিই বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে আরব আমিরাতে যেমন রানের দেখা মিলেছে, বাংলাদেশে তেমন হবে না। বাবর বলেন, 'অনুশীলন করে যা বুঝেছি, আরব আমিরাতের মতো এখানে রান হবে না। এখানে হাতে উইকেট রাখতে হবে, তাহলে পরে কাজ সহজ হবে। বিশ্বকাপেও আমরা উইকেট হাতে রেখে পরে যতটা সম্ভব বেশি রান করতে চেয়েছি। এখানেও এই পরিকল্পনাই থাকবে।' 

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন শেষেই কোচ সাকলায়েন মুশতাককে নিয়ে মিরপুরের পিচ দেখেন বাবর। তার কাছে এই পিচ একেবারেই অচেনা নয়। পাঁচ বছর আগে এখানে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন তিনি।

আরব আমিরাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শিশির। এ শিশিরের কারণে বিশ্বকাপে টস জেতা মানে ম্যাচ জেতার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। বছরের এই সময়টাতে মিরপুরেও রাতের দিকে শিশিরের দাপট থাকে। তবে এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য এ সিরিজের ম্যাচগুলো দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে।