ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে শহীদ শেখ রাসেল দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

সকাল ১১টায় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শেখ রাসেলের শিশু-কিশোর জীবনের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ইউলেসা) সভাপতি নাঈম আহম্মেদ খান, শেখ রাসেলের সহপাঠী কম্পিউটার বিজ্ঞানী শোভন ইসলাম এবং স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইফ চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহেদ আলম খান।

শেখ রাসেলের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, শিশু রাসেলের অসাধারণ কিছু গুণ ছিল। অত্যন্ত সৎ, স্পষ্টভাষী, বন্ধুবৎসল ও অনন্য মানবিক মূল্যবোধের অধিকারী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে সে টিফিন ভাগাভাগি করে খেত। সেদিনের ছোট্ট রাসেল বেঁচে থাকলে আজ ৫৮ বছরের পরিণত মানুষ হতো। কিন্তু ঘাতকদের নির্মম বুলেট সেটি হতে দেয়নি। শেখ রাসেলের মূলবোধ ধারণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।

ড. আখতারুজ্জামান বলেন, একটি চিহ্নিত চক্র দেশের সাম্প্রদায়িক শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এ অপশক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ উপলক্ষে শেখ রাসেলের স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত তার ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, কেক কাটা, আলোচনা সভা ছাড়াও চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ, প্রত্যেক হল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে শেখ রাসেলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।