জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জীববৈচিত্র্যের জন্য সংরক্ষিত অভয়ারণ্যে আগুন লেগে যে ক্ষতি হয়েছে, তা একটি বিপর্যয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাতে চরম হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

জাবির জীববৈচিত্র্যের জন্য সংরক্ষিত অভয়ারণ্য- সমকাল

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে আছে। পুরো এলাকাজুড়ে শুধু পোড়া গন্ধ। এমনকি প্রায় সব গাছ পুড়ে গেছে। গাছে কিছু পাতা থাকলেও তা লালচে হয়ে আছে। এরইমধ্যে ঝরে পড়েছে গাছের পাতাও।

এ দিন কোনো গাছের ডালপালায় পাখির দেখা পর্যন্ত মেলেনি। আশপাশে নেই শেয়াল, গুইসাপ, কাঠবিড়ালি এমনকি গিরগিটির দেখাও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুন লাগার পর থেকে বনভূমিটিতে এসবের দেখা মিলছেই না। পুরো এলাকার মাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাটিতে শুধুই পোড়া গন্ধ।

এর আগে গত বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান কারখানা, ওয়াজেদ মিঞা বিজ্ঞানাগার, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের ভবন ও টিএসসির মধ্যবর্তী এলাকাজুড়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়ন্ত্রণে দুটি ফায়ার ইউনিটসহ আশপাশে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও কাজ করেন।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রায় সময়ই এমন আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা দেখেছি, বিগত বছরগুলোতেও শীত শেষে এ ধরনের আগুনের সূত্রপাত হতে। এতে ব্যাপক পরিমাণে ছোট কীটপতঙ্গ মারা পড়ে এবং বৃক্ষের ক্ষতি হয়। শীতের শেষ সময়ে ঝরা পাতার নিচে টিকটিকি, ব্যাঙ, গিরগিটিসহ ছোট ছোট অনেক প্রাণী আশ্রয় নেয়। এ ধরনের আগুনের ঘটনায় সব প্রাণী মারা যায়। এই প্রাণিগুলো ছোট হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের অনেক অবদান রয়েছে। তবে পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো এ কাজগুলো কারা করে আমরা আদৌ জানতে পারিনি।