ওয়াজ মাহফিলে 'শিশু' বক্তা হিসেবে পরিচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে (২৬) গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বৃহস্পতিবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এদিকে একইদিন বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল থানায় আরও একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার ভোরে নেত্রকোনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

রাষ্ট্রবিরোধী, উস্কানিমূলক ও ঔদ্বত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানায় বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলাটির বাদী হয়েছেন র‌্যাবের নায়েক সুবেদার আবদুল খালেক। 

এজাহারে বলা হয়েছে-রফিকুল বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সে বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থি অপতৎপরতায় লিপ্ত। ধর্মীয় অর্থাৎ কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্ধুব্ধ করে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনিষ্ট, প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতামূলক মনোভাব ও সরকারের প্রতি ঘৃণাভাব সৃষ্টিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশের সরল ও ধর্মানুরাগী মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে সে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার সাকিনস্থ কলমেশ্বর শীতক ফ্যাক্টরির ভেতর ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে রফিকুল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, যা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

রফিকুলকে বুধবার ভোরে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সকালে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ সমকালকে বলেন, সকাল ১০ টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় রফিকুল ইসলাম মাদানীকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পৌঁছে দেন। তিনি স্বাভাবিক রয়েছেন বলেও জানান জেল সুপার।

এদিকে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় আরও একটি জিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন সৈয়দ আদনান নামের এক ব্যক্তি। মামলা নং- ৯। মামলার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম। এজহারে বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন উস্কানি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন। এসব বক্তব্য ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য মানহানিকর। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন রফিকুল। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনিষ্ট হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।