ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি জংশন পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের নাম হবে 'মিতালী এক্সপ্রেস'। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নাম নির্ধারণ করেছেন। ভারতীয় পক্ষ রাজি হলে এ নামের ট্রেনটি আগামী ২৭ মার্চ শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হবে। রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম এ কথা জানান।

২৭ মার্চ উদ্বোধন হলেও শিগগির নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করবে না 'মিতালী এক্সপ্রেস'। করোনার কারণে ভারতের ভিসা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি উন্নতি হলে ট্রেনটি নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং জলপাইগুড়ি থেকে রোববার ও বুধবার ট্রেনটি চলবে।

ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু করতে গত বছর বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই পথে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল ছিল। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের পর এ রুটে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পণ্যবাহী ওয়াগন চলাচলের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ৫৫ বছর পর চালু হয়।

সূত্র জানায়, দুপুরে জলাপাইগুড়ি থেকে রাতে ঢাকায় পৌঁছে ফের জলপাইগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ট্রেনটি। পথে কোনো স্টেশনে দাঁড়াবে না। বর্তমানে 'ঢাকা-কলকাতা' রুটে 'মৈত্রী' এবং 'কলকাতা-খুলনা' রুটে 'বন্ধন' নামে দুটি ট্রেন চলছে।

ঢাকা থেকে জলপাইগুড়ির দূরত্ব রেলপথে ৫৯৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশে পড়েছে ৫২৬ কিলোমিটার। বাকি ৬৯ কিলোমিটার ভারত অংশে। রেল সূত্র জানিয়েছে, ট্রেন থেকে আয় ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ভারতকে। দূরত্ব অনুপাতে ভাড়ার ৮৫ ভাগ বাংলাদেশ এবং বাকি ১৫ ভাগ ভারত পাবে। রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জানান, ভাড়ার হার ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ভারতকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে।

রেল সূত্র জানায়, মিতালীর সব কামরা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সব ধরনের করসহ এসি বার্থে যাত্রীপ্রতি তিন হাজার ৭৪০ টাকা, এসি সিটে ২৮০৫ টাকা এবং এসি চেয়ারে এক হাজার ৮৭০ টাকা ভাড়া পড়বে। ভারতের দেওয়া ১০টি ব্রডগেজ ট্রেন কোচে আপাতত চলবে এটি। পরে নতুন বগি আমদানির পর বাংলাদেশের বগি ও ইঞ্জিনি চলবে মিতালী।