ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চের দুই মাস্টারের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের দূরপাল্লা রুটের যাত্রীবাহী সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে অঘোষিত এ ধর্মঘট শুরু করেছেন যাত্রীবাহী লঞ্চের শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের নৌযানগুলো বরিশাল নৌবন্দর থেকে সরিয়ে মাঝ নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। সদরঘাটেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক নেতারা।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহ আলম সমকালকে বলেন, মেরিন আদালত সোমবার দুইজন মাস্টারের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দুই মাস্টারের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান শ্রমিকরা লঞ্চ চালানো থেকে বিরত থাকবেন।

মেরিন আদালতে জামিন বাতিল হওয়া ওই দুই নৌযান শ্রমিক হচ্ছেন ঢাকা-বরিশাল রুটের অ্যাডভেঞ্চার-১ লঞ্চের মাস্টার জামাল হোসেন ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মাস্টার রুহুল আমিন।

লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের বরিশাল জেলা সভাপতি মাস্টার মো. হাশেম সমকালকে বলেন, গতবছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশায় মেঘনায় দিক হারিয়ে অ্যাডভেঞ্চার-১ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লাগে। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় দুটি লঞ্চের চারজন মাস্টার ও ড্রাইভারের সনদ স্থগিত রাখা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মেরিন আদালতে মামলাও হয়। সোমবার মামলার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মাস্টার জামাল হোসেন ও রুহুল আমিন ঢাকায় মেরিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ খবর অন্যান্য নৌযান শ্রমিকদের মধ্যে পৌঁছলে তারা দূরপাল্লা রুটের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ) মো. রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দুরপাল্লা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ শ্রমিকদের ধর্মঘটের বিষয়টি জানার পর সমস্যা নিরসনে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌ মন্ত্রাণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তারা তৎপর রয়েছেন।

আকস্মিক নৌযান ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সোমবার দুপুর ২টায় কথা হয় কীর্তণখোলা-১০ লঞ্চের কেবিন যাত্রী সাইফুল ইসলাম ও পারভীন আক্তার পপির সঙ্গে। তারা জানান, আদালতে একটি কাজের জন্য একই লঞ্চে ফিরতি টিকেট নিয়ে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশালে পৌঁছেন। আদালতে আধা ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার পর লঞ্চের কেবিনে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য আসেন। এসে দেখেন লঞ্চটি মাঝ নদীতে নোঙর করে আছে।

মন্তব্য করুন