করোনাভাইরাস আক্রান্তের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘুরপাক খাচ্ছে নমুনা পরীক্ষার আবর্তে। নমুনা পরীক্ষা বাড়লে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। আর নমুনা পরীক্ষা কমলে কমে যায় আক্রান্তের সংখ্যা। তবে শনাক্তের হার কমছে না। গত চব্বিশ ঘণ্টায় শনাক্তের হার প্রায় ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। মানুষ আগের তুলনায় সচেতন হয়েছে। অযথা নমুনা পরীক্ষা করাতে চাইছেন না। এ কারণে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। তাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কোন সূচকের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনার সংক্রমণ হ্রাসের দাবি করছে, তা জানতে চেয়ে বিশেষজ্ঞা বলেছেন, মানুষ নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কম দেখাচ্ছে- এটি সত্য নয়। পরীক্ষার পদ্ধতিটি এমন কঠিন করে তোলা হয়েছে যে, মানুষ চাইলেও পরীক্ষা করাতে সমর্থ হচ্ছেন না। আক্রান্তের সংখ্যা কমছে- এটি বলার আগে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্নেষণ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এসব বক্তব্যের রোগতাত্ত্বিক ভিত্তি থাকতে হবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি ও নমুনা পরীক্ষার বাস্তবতা : গতকাল করোনা সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সে জন্য অনেকগুলো ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। প্রথমত সুস্থতার সংজ্ঞা পরিবর্তনের কারণে দ্বিতীয় দফায় আর পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরীক্ষার একটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণেও পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তাছাড়া মানুষের মধ্যে আতঙ্কও অনেকটা কমে গেছে। তারা নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। আগে সকাল ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা ছিল। ৩টার পরও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিন্তু এখন ১টার পরই লাইনে আর কাউকে পাওয়া যায় না। নমুনা পরীক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণেই মানুষ পরীক্ষাকেন্দ্রে আসছেন না। ফলে নমুনা পরীক্ষাও কমে গেছে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালকের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৩ দিনে করোনা সন্দেহভাজন ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯ জন পরীক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে ফোন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পেরেছে। বাকিদের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়, এমন অন্তত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে অনলাইনে নমুনা পরীক্ষার জন্য আগে থেকে নিবন্ধন করতে হয়। নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ হয়ে যাওয়ার পর আর নিবন্ধনের সুযোগ থাকে না। আগে অনলাইন নিবন্ধন না থাকায় মানুষ পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ভিড় জমাত। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও অনেকে অপেক্ষমাণ থাকতেন। এখন অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া পরীক্ষা না করানোয় অযথা মানুষ ভিড় করে না। এ কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগে নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া অনলাইনে নিবন্ধন করতে না পারা ব্যক্তিরা পরীক্ষার আওতার মধ্যেই আসছে না।

গতকাল সারাদেশে নমুনা পরীক্ষার চিত্র বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, এভারকেয়ার হাসপাতালে ১৯৪, স্কয়ারে ১৭৪, প্রাভা হেলথে ২১১, ইবনে সিনায় ২৭৮, এনাম মেডিকেলে ৪২, ইউনাইটেডে ২৪৩, আনোয়ার খান মর্ডানে ৯৮, বায়োমেডে ১০২, ল্যাবএইডে ২৯০, ডিএমএফআর ল্যাবে ৫২০, ডিএনএ সল্যুয়েশনে ২৪৩, ডা. লাল প্যাথ ল্যাবে ৪৮, আইসি হাসপাতালে ৩১, জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিকেলে ৪৬, আইসিডিডিআর'বিতে ২৮১টিসহ রাজধানীর বেসরকারি ২১ প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১২১ জন এবং ঢাকার বাইরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ৬৩৯ জন নমুনা দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। তারপরও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নমুনা পরীক্ষা কমছে না। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষায় মানুষ আসছে না বলে বলা হচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে জানান, প্রতারণার দায়ে বন্ধ জেকেজি নামের প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ নমুনা সংগ্রহ করা হতো। একইভাবে প্রতারণার দায়ে বন্ধ হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালেও নমুনা দেওয়ার জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজন হতো না। এ কারণে অনলাইনে নিবন্ধন যারা করতে পারছিলেন না, তারা ওই প্রতিষ্ঠানসহ ব্র্যাকের বুথে গিয়ে নমুনা দিতেন। জেকেজির সবগুলো বুথের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্র্যাকের বুথ থেকেও আগের তুলনায় অর্ধেক নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব কারণে নমুনার সংখ্যা কমে গেছে। করোনা সন্দেহভাজনদের একটি বড় অংশের অনলাইনে নিবন্ধনের বিষয়ে ধারণা নেই। যে কারণে তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে করে নমুনা পরীক্ষা আরও কমেছে।

পরীক্ষা কম, আক্রান্তও কম; শনাক্তের হার বেশি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে থাকা করোনার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু থেকে বিনামূল্যে হয়ে আসছিল। মাঝখানে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ৫০০ টাকা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সর্বশেষ গত ২৮ জুন করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা এবং বাসায় গিয়ে নমুনা নিয়ে আসার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এটি এখন কমতে থাকবে। কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সংক্রমণ আর বাড়ার তেমন ঝুঁকি নেই।

তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। গত ২১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে মোট এক লাখ ৭১ হাজার ৬৬৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৬ হাজার ৭১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফি নির্ধারণের পর গত ১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৩ দিনে এক লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৭টি নমুনা সংগ্রহ করে সমসংখ্যক পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৪১১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গত ৩০ জুন সর্বশেষ ১৮ হাজার ৮৬৩টি নমুনা সংগ্রহ করে ১৮ হাজার ৪২৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তিন হাজার ৬৮২ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ফি নির্ধারণের পর ২ জুলাই ১৭ হাজার ৯৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও আগের দিনেরসহ ১৮ হাজার ৩৬২টি পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত হয় চার হাজার ১৯ জন। একদিনে এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা। এরপর প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষা কমতে থাকে। গত রোববার সর্বনিম্ন ১১ হাজার ৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে গতকাল তা কিছুটা বেড়েছে। ১২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৯ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৯ জন। এ হিসাবে শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত ৯ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৯১ জনের। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ চিত্র থেকে বলা যায়, জুলাই মাসে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

মৃত্যুও বাড়ছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে গতকাল পর্যন্ত দুই হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতদের অধিকাংশই সরকারি হিসাবে যুক্ত হয়নি। গত ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মার্চে সব মিলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এপ্রিলে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৩ জনে। মে মাসে মৃত্যুবরণ করেন ৪৮২ জন। জুন মাসেই মারা গেছেন এক হাজার ১৯৭ জন। জুলাইয়ের ১৩ দিনে গতকাল পর্যন্ত ৫৪৪ জন মৃত্যুরণ করেছেন। গত ২ জুলাই পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুহার ছিল ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এরপর গতকাল পর্যন্ত তা বেড়ে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ লুকোচুরি করছে- অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের : নমুনা পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লুকোচুরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, উচ্চ সংক্রমণের এ সময়ে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি প্রতিদিন ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তা কমিয়ে ১১ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। মানুষ সচেতন হয়েছে। এসব কারণে নমুনা পরীক্ষা কমেছে। এসব কথা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে তারা প্রলাপ বকছেন। না হলে কীভাবে বললেন, সংক্রমণ কমছে। নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে আনার পর তো দেখা গেল শনাক্তের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুহারও বেড়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ কিসের ওপর ভিত্তি করে এসব কথা বলে তা জানতে চাওয়া প্রয়োজন।

ডা. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ৭৭টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তিন থেকে চারটি করে আরটিপিসিআর মেশিন রয়েছে। এ হিসাবে ৮৫টি মেশিন ধরলেও প্রতিটিতে তিন শিফটে প্রতিদিন ২৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এতে ৮৫টি মেশিনে প্রায় ২৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু পরীক্ষা করা হচ্ছে অর্ধেকেরও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এখন আবোলতাবোল বকছেন। তারা একবার বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। আবার বলছেন, মানুষ পরীক্ষা করাতে আগ্রহী নয়। তারা কি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখেছেন, করোনা সন্দেহভাজনরা পরীক্ষায় আগ্রহী নয়? সরকারি প্রতিষ্ঠানে জটিলতা সৃষ্টি করে কম নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি প্রকাশ না করে উল্টো সাধারণ মানুষের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। প্রয়োজন আছে এমন অনেক মানুষ এখনও নমুনা পরীক্ষা করাতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করেও নমুনা দিতে পারছেন না।

বিএসএমএমইউর সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। নমুনা পরীক্ষা কমার পেছনে যেসব যুক্তি দেখানো হয়েছে, সেগুলোর একটিও বাস্তসম্মত নয়। মোট কথা তারা এখন আর নমুনা পরীক্ষা করতে চাইছেন না। পরিস্থিতি যেহেতু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, সুতরাং আর পরীক্ষা করে কী হবে, হয়তো এটিই ভাবছেন। আর এই ভাবনা থেকেই পরীক্ষা কমিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাতে চাইছেন। এটি হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।