ভিয়েতনামে আটকে পড়া ২৭ বাংলাদেশীকে হোটেলে রাখা হয়েছে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন        -ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন -ফাইল ছবি

অবৈধভাবে ভিয়েতনামে গিয়ে আটকে পড়া ২৭ বাংলাদেশী নাগরিককে সেখানে স্থানীয় একটি হোটেলে রেখেছে বাংলাদেশ মিশন। পাসপোর্ট এবং বৈধ কাগজ-পত্র না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সমস্যা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি আরও জানান, যারা অবৈধভাবে বিদেশ যাবে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি আইন হওয়া উচিত। 

এর আগে গত ৩ জুলাই ভিয়েতনামে আটকে পড়া ১১ বাংলাদেশী নাগরিককে ফিরিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে ৯ জন দালালের খপ্পরে পড়ে সে দেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। তারা ভিয়েতনামের কারাগারে আটক ছিলেন। বাকী ২ জন ভিয়েতনামে বৈধভাবেই কর্মরত ছিলেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাদের ফিরিয়ে আনার পর ২৭ জনের একটি বাংলাদেশী নাগরিকের দল স্থানীয় বাংলাদেশ মিশনে আসে এবং তাদের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে পাঠানোর দাবি জানায়। এক পর্যায়ে তারা মিশন কার্যালয় ঘেরাও করে। পরে মিশন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, এরা সবাই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে সেখানে গেছে। তাদের কাছে স্থানীয়ভাবে কাজ করার আইডি যেমন নেই, তেমনি পাসপোর্টও নেই। তারা দাবি করে, দালালরা তাদের পাসপোর্ট নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ মিশন তাদের স্থানীয় একটি হোটেলে নিয়ে রেখেছে। তারা এখন হোটেলেই আছে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাসপোর্ট না থাকার কারণে তাদের সহজে দেশে ফিরিয়ে আনাও্র সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই ২৭ জনের সমর্থনে ডাকসুর ভিপি প্রবাসী অধিকার পরিষদ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, এটা ঠিক না। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আারও বলেন, যারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশ যাবে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটা নতুন আইন হওয়া উচিত। এ জন্য চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা দালালদের বেশ মোটা টাকা দিচ্ছেন। বিদেশ না গিয়ে  এই টাকা দিয়ে দেশেও নিয়মিত উপার্জনের ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু তা না করে অবৈধভাবে বিদেশ যেতে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।