করোনাকাল

শিল্পীর পাশে শিল্পী

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সাজিদা ইসলাম পারুল

শিল্পীদের সহায়তায় বিক্রি করা জামাল আহমেদের চিত্রকর্ম

শিল্পীদের সহায়তায় বিক্রি করা জামাল আহমেদের চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা সেরা ছবিটা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত চিত্রশিল্পীদের এক মাসের খাবারের নিশ্চয়তা প্রদানে সেই ছবিটাই বিক্রি করে দিলেন। আবার কেউ কেউ দিন-রাত পরিশ্রম করে ছবি আঁকছেন। লক্ষ্য একটাই, ছবি বিক্রির অর্থমূল্য দিয়ে অসহায় সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো। এ উদ্যোগ চারুশিল্পী সংসদের। এ সংগঠনের প্রায় ৩০ জন চিত্রশিল্পীর ছবি বিক্রির অর্থ দিয়েই চলছে সহায়তা কার্যক্রম।
করোনা পরিস্থিতিতে গত এপ্রিল মাস থেকেই বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন ব্যক্তিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। তবে নিজস্ব অঙ্গনের ক্ষতিগ্রস্ত সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে ৩০ জনের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন চারুশিল্পী সংসদের নেতৃবৃন্দ। ছবি বিক্রির অর্থ দিয়ে আরও ৪৫ জনকে সহযোগিতা প্রদানের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী জানান, নিজেদের আঁকা প্রিয় স্মৃতিগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে চিত্রশিল্পীদের জন্য। সহায়তা হিসেবে এক মাসের খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পীর হাতে। তিনি বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দু-একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী রয়েছেন, যাদের ঘরে এখন খাবার নেই। এমনকি তারা কাউকে এ বিষয়টি বলতেও পারছেন না। এ অবস্থায় তাদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। কারণ এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'
সংগঠনটির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক জামাল আহমেদের আঁকা ১১টি ছবি বিক্রি হয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে কয়েকজনকে সহায়তাও করেছেন তিনি। এই গুণী চিত্রশিল্পী সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে ওতটা 'ক্রাইসিস' সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এপ্রিল থেকে সমস্যাগুলো শুরু হয়। তখনই সংগঠনের পক্ষ থেকে সদস্যদের কাছে থেকে স্বল্প মূল্যের ছবি আহ্বান করা হয়। যেগুলোর দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। ওইসব ছবি বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়েই কর্মহীন, ফ্রিল্যান্স চিত্রশিল্পীদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবেও।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিপর্যয়ের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব শিল্পীকে সুরক্ষা ও জাতির মানসিক শক্তিকে সবল রাখার লক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি ও চারুশিল্পী সংসদ 'আর্ট এগেইনস্ট করোনা' শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর ৪৫ জন শিল্পী সহযোগিতা পাবেন বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।
এ ছাড়াও করোনা সংক্রমণের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহায়তা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নাটক, সংগীত, চারুশিল্পী, আবৃত্তি, নৃত্য, যাত্রা, যন্ত্রশিল্পী, লোকশিল্পী, মূকাভিনয়, ভয়েস আর্টিস্ট, রূপসজ্জাকার, কারিগরি কর্মীসহ সব ধারার প্রকৃত শিল্পীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন যারা : করোনাদুর্গতদের সহায়তার জন্য শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম নিলামে তোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের লড়াই দেখার জন্য ১৯৭০ সালে চারটি দেশ সফর করেছিলেন তিনি। তখনকার অভিজ্ঞতার আলোকে মিসরের জীবনযাত্রা নিয়ে শিল্পীর আঁকা একটি ওয়াটার কালার স্কেচ নিলামে তোলা হয়েছে। এর প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে আট লাখ টাকা। শিল্পাচার্যের ছোট ছেলে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন এ তথ্য জানান। এ ছাড়াও দেশের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণের 'তোমার চোখ এতো লাল কেন' শীর্ষক কবির হাতে লেখা কবিতার কপি গত ৬ মে অনলাইনে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকায়। ওই টাকা 'ফ্রেন্ড ফাউন্ডেশন' ও 'লাইফ স্টক অ্যাডভান্সমেন্ট' শীর্ষক দুটি সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে।


বিষয় : করোনা