বিদ্যুৎ বিতরণে বিপর্যয় ক্ষতি ৩৫ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২২ মে ২০২০     আপডেট: ২২ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

হাসনাইন ইমতিয়াজ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিপর্যয়ের কবলে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। প্রায় সোয়া দুই কোটি গ্রাহক দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের অন্য এলাকায়ও ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও উপকূলীয় এবং উত্তরের অনেক জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় এক কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। রাত ১২টা পর্যন্ত লাইন মেরামতের কাজ চলবে। তারপরও ৬০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন থাকবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্রিড সাব-স্টেশনে আগুন লাগায় কুষ্টিয়া জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দীর্ঘ হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় খারাপ আবহাওয়া ও সঞ্চালন লাইনের উচ্চ ভোল্টেজের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিতরণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, চাহিদা কম থাকায় সচল এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের ভোল্টেজ বেড়ে যায়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সারাদেশে প্রায় আড়াই হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে ৫ হাজার পোল হেলে পড়েছে। গাছ ভেঙে পড়ে সাত থেকে আট হাজার কিমি. লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯শ' ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, 'ঝড়ের কারণে ভোলা, বরগুনা, বরিশাল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আশা করা যায়, শুক্রবারের মধ্যে প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।'

আম্পানে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। সারাদেশে গ্রাহক দুই কোটি ৮৫ লাখ। আরইবির সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অঞ্জন কান্তি দাশ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, 'সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। আমরা রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করব।'

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া সমকালকে জানান, কুষ্টিয়া ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাব-স্টেশনে দুটি ট্রান্সফরমার জ্বলে গেছে। ট্রান্সফরমার মেরামতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

রাজশাহীর আট জেলার বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, 'আমরা অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে পেরেছি।'

পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় জানান, তাদের মোট ১২ লাখ গ্রাহকের মধ্যে সাত লাখ গ্রাহকের সংযোগ চালু হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও কুমিল্লা শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ করে। তাদের ৩০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও ময়মনসিংহে সরবরাহ খানিকটা বিঘ্নিত হয়েছিল, দিনের মধ্যেই সেগুলো মেরামত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান ও ঢাকা ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী সমকালকে জানান, আম্পানে তাদের বিতরণ ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি।

টেলিযোগাযোগ সেবাও বিঘ্নিত : মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট টাওয়ারের ৩০ শতাংশ বা প্রায় ৩৫ হাজার সাইটের মধ্যে ১৩ হাজার সাইটে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। এ কারণে বিকল্প ব্যবস্থায় সাইটগুলো চালু রাখতে হিমশিম খেতে হয়।

অ্যামটব মহাসচিব এস এম ফরহাদ জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহীর প্রায় ৫০ শতাংশ সাইটের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিরলস পরিশ্রম অত্যন্ত উৎসাহব্যাঞ্জক। তবে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের সাইটগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।