দুই লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে আরও প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একনেক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 	- পিআইডি

মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একনেক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় নতুন এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে ওই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী করোনার সংক্রমণ রোধ এবং অর্থনীতিতে এর অভিঘাত মোকাবিলায় স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতের জন্য আগামী অর্থবছরে এডিপিতে আরও প্রকল্প সংযোজনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকল্পের স্বচ্ছ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিকে অংকুরেই ধ্বংস করতে হবে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে নয় হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটি ধরে সব মিলিয়ে অনুমোদিত এডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূিচ (আরএডিপি) এক লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। চলতি অর্থবছরের আরএডিপির তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার : করোনার সংক্রমণ রোধ এবং অর্থনীতিতে এর অভিঘাত মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপিতে। চলতি অর্থবছরের এডিপির তুলনায় ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এ খাতের বরাদ্দ। স্বাস্থ্য খাতে নতুন এবং পুরোনো প্রকল্পে মোট ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে এনইসি। চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে এ খাতের বরাদ্দ দশ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বেড়েছে দুই হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তিনবার বলেছেন। সরকারের এখানে যথেষ্ট মনোযোগ আছে। যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে. তা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দিলেই কেবল হবে না, ব্যয় করতে হবে। সেখানে সীমাবদ্ধতা আছে। এ ছাড়া প্রয়োজন মনে করলে এই অনুমোদনের পরও আরও নতুন প্রকল্প আনার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের মান যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিতেও বলেছেন তিনি। সুতরাং এই অনুমোদনই শেষ নয়। বছরের যে কোনো সময় নতুন প্রকল্প নিয়ে বরাদ্দ দেওয়া যাবে। নতুন এডিপির এই বরাদ্দকে সীমাবদ্ধতার বিচারে সর্বোচ্চ মনে করেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ( এডিবি) ঋণে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও একটা প্রকল্পের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন এডিপিতে কৃষি খাতের অনুমোদিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের আরএডিপির তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আগামী অর্থবছরের এডিপিতে কৃষিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আট হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের আরএডিপির তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে এক হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী অর্থবছরের এডিপির আওতায় মোট এক হাজার ৫৮৪টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প এক হাজার ৪৫৭টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২৭টি। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প সংখ্যা ৮৯টি। চলতি বছর প্রকল্পের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৭০০টি।
নতুন এডিপিতে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। ভৌত পরিকল্পনা, পানি ও গৃহায়ন খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দের তালিকায় শীর্ষে আছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।