ঢাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে ফেসবুকে জুনিয়র ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

অভিযুক্ত ছাত্র

অভিযুক্ত ছাত্র

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে নিজ বিভাগের জুনিয়র এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাতে নিজ ফেসবুক একাউন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ফেসবুক গ্রুপে ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই ছাত্রের যৌন হয়রানিমূলক  কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস করে দেন। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ছাত্র ওই ছাত্রীকে  অশ্লীল কথাবার্তা ও  কু-প্রস্তাব দেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ শিকদার দিহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র এবং হল ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক। 

অন্যদিকে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে ওই ছাত্রী হয়রানির ঘটনা তুলে ধরে লেখেন, 'প্রথমবর্ষে থাকাকালীন দিহান ভাই আমাকে ফেসবুকে নক দেয়। বিভাগের বড় ভাই হিসেবে কথা বলি। প্রথমে ক্যাম্পাস লাইফ এনজয় করতে শেখার জন্য নানা উপদেশ দিচ্ছিলেন। মাস ছয়েক পর তিনি আমাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন।’

পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা এত কম পরিচয়ে একটা মানুষ আমাকে এত নোংরা কথা বলতে পারে, সেটা আমার দুঃস্বপ্নেও ছিল না। তারপর উনি আরো কী কী বলেন, সেটা সব স্ক্রিনশট দেওয়া আছে। তারপর আমি উনাকে কিছু না বলেই ব্লক দিয়ে দিই। এবং এই ঘটনার পর থেকে ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র তো বটেই, যেকোনো মানুষের প্রতিই আমার একটা অরুচি চলে আসে, আমি ক্লাস বাদ দিই, টোটালি আইসোলেটেড হয়ে যাই।'

তবে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাসে এ হয়রানির ঘটনা ঘটে। কেন এতদিন পর এই অভিযোগ, তখন কেন প্রকাশ করা হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সমকালকে বলেন, তখন আমি এতকিছু বুঝিনি। তাছাড়া আমি উনাকে বেশ ভয়ও পেতাম। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস জোগাতে আমার এক বছর লেগে গেছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর ফার্স্ট ইয়ারের নতুন মেয়েরা উনার টার্গেট হয়। আমরা ফ্রেশার থাকতে উনার ভিকটিম ছিলাম আমি। পরের বছর আরও দুজন মেয়েকে উনি হয়রানি করেছেন। কিন্তু এভাবে আর কত? পরের বছর যাতে আমার কোনো ছোট বোন উনার কবলে না পড়ে, তাই উনার মুখোশ উন্মোচন করে দিলাম।

ওই ছাত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরপরই ওই বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগাযোগ করেন সমকালের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাহিদ নিজ ব্যাচসহ অন্যান্য ব্যাচের ছাত্রীদের ফেসবুকে উত্ত্যক্ত করতেন। এছাড়া তিনি পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বন করে বিভাগীয় বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে ওই ছাত্রী বলেন, বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যারকে ফোনে জানিয়েছি। যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ,  তাই লিখিত অভিযোগ দিতে পারছি না। তবে ক্যাম্পাস খুললে আমি বিভাগের চেয়ারপারসনসহ প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাব।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত নাহিদকে ফোন দিলে তিনি প্রথমে ফোন ধরেননি। পরে আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে এর আগে যৌন হয়রানির ঘটনা অস্বীকার করে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে একটা পোস্ট দেন। তাতে তিনি লিখেন, '২০১৯ সালের জুনে আমরা সবাই ঈদের বন্ধে বাড়িতে ছিলাম। তখন আমার আইডি হ্যাক হয়েছিলো। আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে আমি দীর্ঘদিন আইডি ব্যবহার করতে পারিনি। এসময় কে বা কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি জানি না।' পরে নিজ ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিও ডিএ্যাক্টিভ করে দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান  অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান সমকালকে বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, আগে কেন জানানো হলো না?  এতদিন পর কেন এটা ফেসবুকে দিতে গেল? আমাদের আগে জানাতে পারত। আমাকে না হোক বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা কিংবা কোনো কোর্স টিচারকেও জানাতে পারতো। এতদিন না বলে এখন ছুটির মধ্যে কেন ও ফেসবুকে লিখলো এইটা। আমাদের জানালেও তো আমরা বিভাগ থেকে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও আমরা অভিযোগ পেলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখব এবং ঘটনা সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী।

তিনি বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি।  ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। আমি তাকে এ বিষয়ে  লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনা সত্য হলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।