রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠাতে চায় না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

উদ্বোধনের পর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন- সমকাল

উদ্বোধনের পর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন- সমকাল

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। সেই মানবিক বিবেচনা থেকেই তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় না বাংলাদেশ। বরং তারা যেন নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে 'ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড' শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পকলা একাডেমি এবং ভোরের কাগজ যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনী আগামী ৮ জানুয়ারি অবধি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন অপু, কে এম আসাদ, সুমন পাল ও সালাউদ্দিন আহমেদের তোলা শতাধিক ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাবেই দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার 'গণহত্যা' শব্দে আপত্তি জানালেও রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে নিজেদের নাগরিক বলে মেনে নেয়। কারণ, তারা হোমওয়ার্ক ঠিকমতো করেনি। আন্তরিকতার অভাব থাকার কারণেই তারা হোমওয়ার্ক যথাযথভাবে করেনি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে এটাও বলা হয়েছে, তাদের জনগণ রোহিঙ্গারাই তাদের বিশ্বাস করছে না। রোহিঙ্গা নেতাদের মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখিয়ে তাদের মধ্যে আস্থা অর্জনের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতেও মিয়ানমার সরকারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়। কিন্তু এর কোনো জবাব মিয়ানমার দেয়নি।

কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে- একথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনসংখ্যা পাঁচ লাখ, সেখানে ক্যাম্পে রোহিঙ্গা আছে প্রায় ১১ লাখ। তাদের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, স্থানীয়দের জীবিকায় প্রভাব পড়ছে। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা যে সহায়তা দিচ্ছে, তাও যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা খরচ করেছে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের পক্ষে এ বোঝা বহন করা সম্ভব নয়।