আয়ের ৯০ ভাগই দেশে পাঠাচ্ছেন অভিবাসী নারীরা: রামরু

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

হয়রানি ও নির্যাতন সত্ত্বেও আয়ের ৯০ শতাংশ অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন অভিবাসী নারীরা। অথচ পুরুষ শ্রমিকরা পাঠান আয়ের ৫০ শতাংশ। ২০১৮ সালের তুলনায় বিদায়ী বছরে নারী শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার হার বেড়েছে। তবে নারী কর্মীরা বিদেশে শারীরিক, মানসিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে লাশ হয়েও দেশে ফিরছেন।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে 'আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি ও প্রকৃতি-২০১৯ : অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশ হিসেবে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান সপ্তম। অভিবাসী নারী শ্রমিকরা পুরুষ অভিবাসীদের চেয়ে কম উপার্জন করলেও আয়ের প্রায় পুরোটাই দেশে পাঠান তারা।

রামরুর প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসী নারী শ্রমিকরা যে দেশে গৃহকর্মী হিসেবে যাচ্ছেন সে দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা সমস্যায় পড়ছেন। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

রামরুর তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় লাখ চার হাজার ৬০ কর্মী বিদেশে গেছেন। সবচেয়ে বেশি অভিবাসন হয়েছে সৌদি আরবে। এ বছর দেশটিতে তিন লাখ ৬০ হাজার ২৪ কর্মী গেছেন, যা মোট পাঠানো কর্মীর ৫৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৪৩০ নারী কর্মী কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। শুধু সৌদি আরবে গেছেন ৫৮ হাজার ২৮৩ নারী কর্মী। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ যাওয়া নারী কর্মীদের গড় বয়স ২৭ বছর। তাদের মধ্যে ৭০ ভাগ বিবাহিত, ৩০ ভাগের মতো তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা।

রামরুর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক অভিবাসন হয় কুমিল্লা জেলা থেকে, ৫৩ হাজার ৯১১ জন। এটা মোট অভিবাসনের প্রায় ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে গেছেন ৩৪ হাজার ১৪৯ জন। এটা মোট অভিবাসনের ৫.৬৫ শতাংশ।

রামরু জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অভিবাসী শ্রমিকরা ১৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর শেষে রেমিট্যান্স দাঁড়াবে ১৮ দশমকি ১৯ বিলিয়ন ডলারে। এবার গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স ১৭ দশমকি ০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নয় হাজার ১৭৭ নারী কর্মীকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়। তাদের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয় আট হাজার ৬৩৭ জনকে। ২০১৯ সালের প্রথম ১০ মাসে রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাসে এক হাজার ২০৬ নারী কর্মীকে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ এবং ১৬ জন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে রামরুর পরিচালক মেরিনা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।