শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০১ মার্চ ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) একাধিক কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের পদায়ন করে এসব প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি করা হয়। আগামী সোমবারের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আব্দুল মান্নানকে সিলেটের সরকারি এমসি কলেজে বাংলার অধ্যাপক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল বাশারকে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে, সরকারি বাঙলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলামকে গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে, নায়েমের উপপরিচালক মাসুদা বেগমকে কুমিল্লার সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মাদ্রাসা পরিদর্শক মুহাম্মদ নাজমুল হককে টঙ্গী সরকারি কলেজে, মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) জাকির হোসেনকে সরকারি কবি নজরুল কলেজে, মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) এ. কে. মাসুদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।

একই আদেশে বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়নও করা হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনকে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক), ঢাকা কলেজের অধ্যাপক এসএম আমিরুল ইসলামকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক রুপক রায়কে মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং মাউশির সহকারী পরিচালক (সেসিপ) লোকমান হোসেনকে একই দপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের সূত্রগুলো জানায়, বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে মুহাম্মদ নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করা, একেএম মাসুদের বিরুদ্ধে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের কাজ ইচ্ছেকৃতভাবে বিলম্বিত করা, ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল বাশার ও মাউশির প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অফিসে সেবা নিতে আসা অংশীজনের নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের শেষ সময়ে নানা অভিযোগে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই তাদের আবার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্য থেকে কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও ঢাকার বাইরে বদলি করা হলো। বুধবার বদলি করা কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে শিক্ষা প্রশাসনে পরিচিত।

শিক্ষা ক্যাডারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব কর্মকর্তাকে চলতি বছরের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল তাদের কয়েকজন এখনও মাউশির বিভিন্ন প্রকল্পসহ নানা জায়গায় রয়ে গেছেন, জড়িয়ে পড়েছেন দুর্নীতির সঙ্গে। এমনকি যিনি এই গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনিও স্বপদে বহাল রয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে বদলি করলেই শিক্ষা প্রশাসন অনেকটা ক্লিন ইমেজে ফিরে আসবে।