৭ দফা দাবিতে বুয়েট ভিসিকে স্মারকলিপি

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২০   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ক্যাম্পাসে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা- ফোকাস বাংলা

ক্যাম্পাসে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা- ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা, বুয়েটে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ ও ক্যাম্পাসে আবরারের ভাস্কর্য নির্মাণসহ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

আবরারের স্মরণে শনিবার সকালে বুয়েট ক্যাম্পাসে মিলিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। পরে একটি মৌন মিছিল বের করেন তারা। মিছিলে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহও অংশ নেন। আবরারের মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তার বাবা।

মিছিল শেষে সাত দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বুয়েটে যাদের প্রশ্রয়ে র‌্যাগিং চালু হয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা এবং আবরারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিচার দাবি তোলা হয়। এসব দাবি অচিরেই মানা হবে বলে আশ্বাস দেন বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

এদিকে মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক আশা নিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে এখানে পড়তে আসে। তাদের বাবা-মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে তাদের এখানে পাঠান। এর মধ্যে এ রকম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ রকম ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি অবশ্যই পাওয়া উচিত, যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আর যেন কেউ র‌্যাগিংয়েরও শিকার না হয়, এর জন্য প্রশাসনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলে নিজের কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। পরের দিন তার বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামলে তাদের দাবির মুখে বেশ কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল বুয়েট প্রশাসন। তাদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর মাঠের আন্দোলন থেকে সরে আসে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

তবে মামলার অভিযোগপত্র ও অন্য দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দেয়। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ তিন দাবি পূরণ হলে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা জানায় আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে বহিষ্কারের দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি দুটি দাবি পূরণে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শাকিল আনোয়ার জানান, তিনটি দাবি মেনে নিতে প্রশাসন তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এর মধ্যে একটি দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি দুটি দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।