তিন বছরে বিদেশ সফরে জ্বালানির ৪৫৩ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

গত তিন বছরে ৪৫৩ জন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১০ সংস্থা ও কোম্পানির এসব কর্মকর্তা ১০১টি ট্যুর করেছেন। কমিটির নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের এই তালিকা উপস্থাপন করা হয়।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য আবু জাহির, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও নার্গিস রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে বলা হয়েছে- তিন বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ৭০, পেট্রোবাংলার ৩৯, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) ৮, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিডিসিএল) ২০, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ২৮, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডেএসএল) ৫, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এপপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ৯৩, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ১১০, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৩৮ এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ৪২ জন এসব সফর করেন।

বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্নত নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষিত ধারণা বা প্রয়োগ দেশের তেল, গ্যাস ও কয়লা খাতে বাস্তবায়ন করা হয়। তাই সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার অথবা কর্মশালায় অংশ নিয়ে এসব বিষয়ে জ্ঞান ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা অর্জনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পাঠানো হয়।

বৈঠকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত এবং বিদেশ সফরে সরকারের অর্থের অপচয় বন্ধে মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিদেশ সফরের পর একটি প্রতিবেদন সংস্থার কাছে উপস্থাপনের সুপারিশও করা হয়।

মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয় এ বৈঠক থেকে। বলা হয় দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে। বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন তিনটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নেতিবাচক দিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সাশ্রয় এবং অতিরিক্ত ব্যয় রোধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ডিপিপি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।