যুবলীগ নেতা শামীম আটক, কার্যালয়ে অভিযান

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

নিজ কার্যালয়ে র‌্যাব হেফাজতে শামীম- সমকাল

ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর এবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা  এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার বেলা ৩টার পর রাজধানীর নিকেতনের ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সমবায় বিষয়ক সম্পাদককে সাত দেহরক্ষীসহ আটক করা হয়।

র‌্যাবের মুখপাত্র সারওয়ার-বিন-কাশেম সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দেহরক্ষীসহ আটক করা হয়েছে।

এর আগে দুপুর থেকে শামীমের কার্যালয় 'জি কে বিল্ডার্স' ঘিরে অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান বলেন, 'যুবলীগ নেতা শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।'

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় শামীমের কার্যালয়ের বাইরে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে 'মনস্টার' সম্বোধন করে তাদের পদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সভায় যুবলীগের কিছু নেতার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পরই বুধবার রাতে গুলশানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি খালেদকে। ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে তার পরিচালিত অবৈধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র‌্যাব।

এরপর আলোচনায় আসে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শামীমের নাম। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীম।

বৃহস্পতিবার যুবলীগের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগ নেতারা গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে একথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ছাত্রলীগকে সততা ও আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে। ছাত্রলীগ নিয়ে আর কোনো নালিশ (অভিযোগ) শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। এ অবস্থায় নিজেদের ইমেজ বাড়াতে হবে। নীতি-আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে।