ডেঙ্গুতে ঝরে গেছে ৩৫ শিক্ষার্থী

সম্ভাবনার অপমৃত্যু

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

জয়নাল আবেদীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪ নম্বর কক্ষটি আবার পূর্ণ হয়ে গেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো ফিরোজ কবির স্বাধীনের আসনে উঠেছেন আরেক ছাত্র। তবে শূন্যতার হাহাকার এখনও বিরাজ করছে চারশ' কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের মহেশপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে তার ঘরটিতে। স্বাধীনের মা আর কৃষক বাবার বুকের শূন্যতা সারা জীবনের। ডেঙ্গু নামের ভাইরাস জ্বর কেড়ে নিয়েছে তাদের বুকের ধন, বেঁচে থাকার ভরসা। স্বাধীনের বাড়িটির মতোই সুনসান ও নীরব হয়ে গেছে আরও ৩৪ সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর বাড়ি।

সন্তানদের ঘিরে থাকে সব মা-বাবার অসীম প্রত্যাশা। ডেঙ্গুতে হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের নিয়েও অনেক আশা ছিল- তাদের সন্তানেরা শিক্ষিত হয়ে একদিন ঘর আলোকিত করবে। অথচ সেই ঘরগুলোই ঢেকে গেছে ঘোর অমানিশায়। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। ডেঙ্গুতে নিহতের বেশিরভাগই ছিলেন মেধাবী। কেউ ছিলেন তাদের পরিবারের ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা, কেউ ছিলেন শিক্ষাজীবনের শেষপ্রান্তে। কিছুদিন পরেই সংসারের হাল ধরার কথা ছিল। এসব মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী হারিয়ে গেলেন অকালে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০৮। এই তালিকায় ৩৫ জনই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দু'জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, আটজন দেশের বিভিন্ন  কলেজ, ১৮ জন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাকি পাঁচজন এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে ছিলেন ভর্তির অপেক্ষায়। মৃতের মধ্যে আছেন দু'জন শিক্ষকও। অবশ্য সরকারি হিসাবে সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬০; যেখানে শিক্ষার্থী ১৫ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা সমকালকে বলেন, এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন শিক্ষার্থী। মৃত্যুর সংখ্যায়ও শিক্ষার্থী বেশি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০১টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে ৬০টি ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৫ জনই শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গৃহিণী ১২ জন। নয়জনের পেশাগত তথ্য জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৬৭ জন, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই শিক্ষার্থী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আক্রান্তের তালিকায় গৃহিণীর সংখ্যা কম। আবার মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই শিশু। এই বিষয়টি মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, শিক্ষার্থীরা এডিস মশার আক্রমণের শিকার হচ্ছে ঘরের বাইরেই। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে তাদেরও ওভাবে দায়ী করা যায় না। তারপরও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপরিচ্ছন্ন কিংবা এডিস মশা জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম। প্রতিটি স্কুল-কলেজে চিঠি দিয়েছি। এমনকি ঈদের ছুটিতেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে গেছি।'

আইইডিসিআর-এর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৬৪ দশমিক ১১ শতাংশ পুরুষ। বয়সের হিসাবে ৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সাধারণত ৫ থেকে ২৫ বছরই শিক্ষার্থীদের বয়স। এই বয়সসীমার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বাড়তে শুরু করে জুলাইয়ে। আগস্টে দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে। তবে এখনও প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ডেঙ্গু রোগী মারা যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৪ জন : জুলাই থেকে মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রথম শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ফিরোজ কবির স্বাধীন। তিনি মারা যান ২৬ জুলাই। ঠাকুরগাঁওয়ের দরিদ্র কৃষক দবিরুল ইসলামের ছেলে স্বাধীন মৃত্যুর কিছুদিন আগেই বাবাকে ফোনে বলেছিলেন, 'তোমাদের আর কষ্ট করতে হবে না। চাষাবাদ করা লাগবে না। আমার পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। ভালো চাকরি নিয়ে তোমাদের দুঃখ মুছে দেব।' ডেঙ্গু তা হতে দিল না। উল্টো দবিরুলদের সারা জীবনের দুঃখ হয়ে রইলেন স্বাধীন। সোমবার ফোনে সমকালকে এ কথাগুলো জানান দবিরুল।

স্বাধীনের মৃত্যুর পরদিন প্রাণ হারান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ইউ খাইন নু। তার বাবা মংবা অং হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, উচ্চশিক্ষিত হয়ে কোথায় সমাজকে আলোকিত করবে, তার আগেই আমাদের আঁধারে ডুবিয়ে মেয়েটি হারিয়ে গেল! বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালেই তার মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী রিফাত হোসাইনও হার মানেন ডেঙ্গুর কাছে। ১১ আগস্ট প্রাণ হারান তিনি। সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এ ছাত্রের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। বুধবার রাতে প্রাণ হারায় সাভারের বনগাঁও এলাকার মনজুর মোর্শেদ আবির (২৫)। আবির একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ করে আইন বিষয়ে পড়ছিলেন।

কলেজছাত্র ৮ জন : নদীভাঙনের শিকার হয়ে কয়েক বছর আগে সপরিবারে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের খালেক মোল্লা। তার মেয়ে ইভা আক্তার (২৫) মারা গেলেন ডেঙ্গুতে। মুগদা মেডিকেলে ৪ আগস্ট মারা যান তিনি। তিনি ইডেন মহিলা কলেজে পড়তেন।

মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে ফলের অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র মেহেদী হাসান কামাল। ফল আর জেনে যেতে পারলেন না। তার আগেই ২১ আগস্ট ডেঙ্গুর কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে চলে যান। কামাল থাকতেন রাজধানীর মুগদা এলাকায়। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তার আরেক সহপাঠীও প্রাণ হারান ডেঙ্গুতে। তার নামও মেহেদী হাসান। স্নাতকোত্তরের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ৫ আগস্ট তিনি মারা যান। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। কলেজের নিকটস্থ শহীদ আক্কাসুর রহমান আঁখি ছাত্রাবাসের ২০১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ফরিদপুরের মধুখালী সরকারি আয়েনউদ্দিন কলেজের স্নাতকের ছাত্রী খালেদা পারভীন (২৫) মারা যান ৯ আগস্ট। তিনি মধুখালী উপজেলার মেঘচামী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক ফিরোজ খানের মেয়ে। ১৪ আগস্ট ফরহাদ হোসেন নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয় ময়মনসিংহে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বড়বাড়িতে। ১৭ আগস্ট প্রাণ হারান মাগুরার সত্রাজিৎপুর কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র সুমন বাশার রাজু। তার বাড়ি সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। ১৯ আগস্ট মারা গেছেন দুমকী সরকারি জনতা কলেজের অধ্যাপক ফজলুর রহমান সিদ্দিকীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৮)। ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন তিনি।

২৫ আগস্ট মারা যান শরীয়তপুরের গোসাইরহাট সরকারি সামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. দাদন লস্কর (২৫)। তিনি উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালি গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন লস্করের ছেলে।

স্কুলশিক্ষার্থী ১৮ জন : ২৮ জুলাই প্রাণ হারিয়েছে রাজধানীর আজিমপুর লিটল অ্যাঞ্জেল স্কুুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জারিফা জাহান (৯)। তার বাবা জলিল আহমেদ সমকালকে বলেন, 'শীত-গ্রীষ্ফ্ম-বর্ষা সব মৌসুমেই মশারি ব্যবহার করি। তারপরও মেয়েটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল! মনে হচ্ছে, স্কুলেই মেয়েটি এডিস মশার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ৩১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিউল ইসলাম রাব্বি ও মুগদা মেডিকেলে আদিব (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। রাব্বি বংশালের একটি বেসরকারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। উত্তর মুগদার বাসিন্দা আদিবের বাবা সাকিল আহমেদ সমকালকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই আদিব মারা যায়। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হামজা (১২) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১ আগস্ট। সে চুন্ডা ইউনিয়নের নশিংপুর গ্রামের মো. ইসমাইল মিয়ার ছেলে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর মডেল স্কুুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রাইয়ান সরকার মারা যায় ২ আগস্ট। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রলাপ বকছিল রাইয়ান। এক পর্যায়ে সে মাকে উদ্দেশ করে বলছিল, 'সব ভেঙেচুরে আসতেছে। আসিস না, তুই আসিস না।' মা রোমানা ছেলের শেষবেলার কথাগুলো স্মরণ করে রোজই কাঁদেন।

৪ আগস্ট প্রাণ হারায় রাজধানীর মেরাদিয়া স্কুুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হাসান (১১)। খিলগাঁওয়ের সিপাইপাড়ায় থাকত তারা। বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। বোয়ালমারী উপজেলার নিউ অলব্রাইট প্রি-ক্যাডেট স্কুুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অথৈ সাহা (১১) মারা যায় ৫ আগস্ট। একই দিন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ছোট ঝিনাইয়া গ্রামের অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের কেজি ওয়ানের শিক্ষার্থী মদিনা আক্তার (৭) প্রাণ হারায়।

৯ আগস্ট মারা গেছে জামালপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত (১০)। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যায় মেহরাজ হাসান (৮) নামে এক শিশু। সে উত্তরার একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

রাজধানীর ধানমণ্ডি মডেল স্কুুলের শিশু শ্রেণিতে পড়ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমিন সরকারের মেয়ে সায়েরা। তার দুই মেয়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। সায়েরা মারা যায় ১০ আগস্ট। একই দিন মারা গেছে লালমাটিয়া এলাকার ওয়াইডব্লিউসি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুশা আক্তার (১০)। ১২ আগস্ট প্রাণ হারায় নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া এলাকার স্কুলছাত্র অভিজিৎ সাহা (১১)। ২৭ আগস্ট মারা যায় গাজীপুরের ছোট দেওরা অগ্রণী স্কুুলের নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান (১৫)। সে সদর উপজেলার সামন্তপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। ২৯ আগস্ট মারা যায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের মকবুল হোসেনের মেয়ে মনীষা আক্তার (১২)। মনীষা বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুরের টঙ্গীতে থাকত। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত সে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অস্মিতা প্রাণ হারায় ৪ সেপ্টেম্বর। কবি, ছড়াকার ও সংগঠক হেনা নুরজাহানের মেয়ে অস্মিতা ছিল খুবই মেধাবী। বুধবার প্রাণ হারিয়েছে বরিশালের দুই স্কুলশিক্ষার্থী। দুপুরে মারা যায় মুলাদী উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন জিহাদ (১৩)। সে স্থানীয় চরলক্ষ্মীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সন্ধ্যায় মারা গেছে পশ্চিম হারিটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার (১৪)। সে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাদল মুন্সীর মেয়ে।

পাস করে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন ৫ জন : দিনাজপুরের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেঙ্গা গ্রামের অনুকূল চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপি রানী রায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় কোচিং করছিলেন। ৪ আগস্ট জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পাঁচ দিন পর ৯ আগস্ট দিনাজপুর সদর হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এইচএসসি পাস করে স্নাতকে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঘোষণতারা গ্রামের মো. আলীর ছেলে সোহেল, পাবনা সদর উপজেলার চররামানন্দপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মুছাব্বির হোসেন মাহফুজ এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ছিলাধরচর গ্রামের আসাদ শিকদারের ছেলে রবিন শিকদার। ৩০ জুলাই সোহেল, ১৩ আগস্ট মাহফুজ এবং ৬ সেপ্টেম্বর রবিন মারা যান।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী গড়কুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছমিরনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে শান্ত (১৭)। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জুলাই তিনি মারা যান।

২ জন শিক্ষক : ডেঙ্গুতে দু'জন শিক্ষকের মৃত্যুর তথ্যও জানা গেছে। তাদের মধ্যে বরগুনার আমতলী পৌরসভার একে হাই স্কুুল সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম ১৯ আগস্ট এবং কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার সোনিয়া ১১ আগস্ট মারা যান।