যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুর মেডিকেলের অধ্যক্ষসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রংপুর মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. মো. নূর ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরে এ মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, মেডিকেল কলেজটিতে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন না থাকলেও অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা কেনা হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এভাবে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কিনে আত্মসাৎ করা হয়েছে সরকারের চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার তিনশ' টাকা।

মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন– বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, দিনাজপুরের আবদুস সাত্তার সরকার, আহসান হাবিব, ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমান ও রংপুর মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়াত হোসেন।

এজাহারে বলা হয়, মেডিকেল কলেজে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কিনতে অধ্যক্ষ ডা. মো. নূর ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। তিনি যথাযথ চাহিদা ও স্পেসিফিকেশন ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন ও পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেন। গত বছরের ২১ জুন দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দিয়ে তিনি চুক্তিপত্রও স্বাক্ষর করেন। গত বছরের ২৩ জুন এর কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, কার্যাদেশ পাওয়ার পঞ্চম দিনে গত বছরের ২৭ জুন সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই বিল দাখিল করে এবং সেই বিল ওই তারিখেই পাস করা হয়। প্রশাসনিক অনুমোদনসহ ব্যয় মঞ্জুরি পাওয়ার আগেই অধ্যক্ষ বিল স্বাক্ষর করে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেন। এভাবে মো. নূর ইসলাম সংশ্লিষ্ট কোম্পানির স্বত্বাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকারকে চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার তিনশ' টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ও টেন্ডার দাখিলকারী বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিন সরকারের বাবা) ও আহসান হাবীব (জাহের উদ্দিন সরকারের ছেলে) ও ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিন সরকারের ভগ্নিপতি) পরিচয় গোপন করে সিন্ডিকেট করে সাজানো দরপত্র দেন।

এজাহারে বলা হয়, ডা. মো. সারোয়াত হোসেন একাই বাজার দর কমিটি, দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও সার্ভে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ নন-ক্লিনিক্যাল কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যন্ত্রপাতি বিষয়ে তার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। তিনি নিজে অবৈধভাবে লাভবান হয়ে কমিটিগুলোর সদস্য সচিব হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে পরস্পর যোগসাজশে জাহের উদ্দিন সরকারকে চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার তিনশ' টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন। গত বছরের ২১ মার্চ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে এ দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।