বিশেষ লেখা

আস্থা সৃষ্টির দায়িত্ব মিয়ানমারের

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

হুমায়ুন কবীর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বৃহস্পতিবার শুরুর কথা ছিল, শুরু হয়নি। কিন্তু তাই বলে উদ্যম হারালে চলবে না। রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে ফিরতে হবে। এর বিকল্প নেই। এ জন্য যত ধরনের প্রচেষ্টা চালানো সম্ভব, তা চালিয়ে যেতে হবে।

রোহিঙ্গারা ফিরতে চায়নি। এর কারণ, মিয়ানমারের প্রতি তাদের আস্থার অভাব। এই আস্থাহীনতার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে। রোহিঙ্গারা যে পরিবেশে রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, তা ছিল বিভীষিকাময়। সেখানে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতির ভেতর থেকে যারা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের মনে আস্থা ফিরে আসা সহজ ব্যাপার নয়। আবার ২০১৭ সালের আগস্টের সেই বিভীষিকার পর এত দিনেও মিয়ানমার এমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি, যার মাধ্যমে প্রমাণ হয়- রাখাইনে সত্যিকার অর্থেই রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বরং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রকাশিত রিপোর্টগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, রাখাইনে এখনও ভীতির পরিবেশ দূর হয়নি। ফলে রোহিঙ্গারা আস্থার সংকটে ভুগছে যে, সেখানে ফিরে গেলে তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে কি-না কিংবা অন্যান্য অধিকার পাবে কি-না। আর এ আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব মিয়ানমারের। মিয়ানমারকেই প্রমাণ করতে হবে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত করারও সুযোগ নেই। কারণ, এ সংকট অদূর ভবিষ্যতে শুধু বাংলাদেশের একার থাকবে না। এটা এ অঞ্চলের জন্য একটা বড় সংকটে পরিণত হবে। এ সপ্তাহে ঢাকা সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এ কথা বলে গেছেন। যত সময় যাবে, এ সংকট আরও জটিল হবে। তাই প্রত্যাবাসনের কাজটি দ্রুতই করতে হবে। বাংলাদেশকে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াস অবশ্যই রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনবে, মিয়ানমারে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করবে। মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের নিজের দেশ। তারা একটা পরিস্থিতিতে সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তাদের দেশ মিয়ানমার। সেখানেই তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যেতে হবে। এই বাস্তবতাটা তাদের আরও ভালোভাবে বোঝাতে হবে।

বৃহস্পতিবার একটা তারিখ ছিল। একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। এ ধরনের একটা বড় সংকট সমাধানে সময় লাগে। কোনো কোনো উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে সফল হয় না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সব শেষ হয়ে গেল কিংবা ব্যর্থতায় সবকিছু হারিয়ে গেল। রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হওয়ার আগেই এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে এবং সেখান থেকে আবারও পালিয়ে আসার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না, সেই নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে। তাহলেই সংকটের সমাধান আসবে। সম্মিলিত প্রয়াস নেওয়া হলে সমস্যা যতই বড় হোক, গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান আসবেই।

বিষয় : বিশেষ লেখা