ময়মনসিংহের ১৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের ১৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে প্রসিকিউশন শাখায়।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন দাখিল করেন এ প্রতিবেদন।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক এম সানাউল হক জানান, এ মামলায় ১৫ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে চলতি বছরের মার্চে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দশজনকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতার পাঁচজন হলো- মো. গিয়াস উদ্দিন খান (৭৭), সৈয়দ বদিউর রহমান ওরফে বনু মিয়া (৭০), মো. উমেদ আলী (৮৭), মো. আবু ছিদ্দিক (৭৫) এবং মো. আবদুল খালেক (৬২)। তারা সবাই তৎকালীন রাজাকার বাহিনীর সদস্য। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ সাত ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা ফুলপুর ও হালুয়াঘাট এলাকায় এসব অপরাধ সংঘটিত করে। আসামিরা সবাই ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। আসামিদের মধ্যে গিয়াস জামায়াতের সমর্থক, বনু মিয়া ও খালেক আওয়ামী লীগের সমর্থক, বাকি দু'জনের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামিদের নির্যাতনে ওই এলাকায় সর্বমোট ১৩০ জন নিহত হন। আহত হন ২০-২৫ জন, ধর্ষিত হন একজন, ২৫-৩০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও একাধিক বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়ে শেষ হয় বৃহস্পতিবার। চার খণ্ডে মোট ৩৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।