বিশিষ্টজনের অভিমত

তারুণ্যে এগিয়ে যাক দেশ

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

বিশেষ প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল গণরায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট আবারও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর সবার মনেই প্রশ্ন ছিল কেমন হবে নতুন মন্ত্রিসভা? পুরনোরাই কি থেকে যাবেন, নাকি নতুন চমক দেখা যাবে? সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৩১ জন নতুন মুখের সমাবেশ দেখা গেছে। পুরনোদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ৩৪ জন। নবীন-প্রবীণের এ সংমিশ্রণকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বিশিষ্টজন।

তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি নতুন স্বপ্ন, নবযাত্রা  শুরুর সূচনার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত দেশকে আগামীতে আরও সমৃদ্ধির পথে, সম্মানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজন। একইসঙ্গে তারা বলেন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে নতুন সরকারের সাফল্য। এদিকেও মন্ত্রিসভার সদস্যরা যত্নবান থাকবেন বলেও মনে করেন তারা।

মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অনেক অভিজ্ঞ নেতা এ মেয়াদে মন্ত্রিসভায় নেই। তার বদলে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করা পরীক্ষিতরা এবার এসেছেন নতুন মুখ হিসেবে। এ প্রসঙ্গ টেনে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন অনেক নাম যোগ হয়েছে। পুরনো অনেকে বাদ গেছেন। স্বভাবতই তারা সবাই কমবেশি তরুণ। ইতিহাসের ধারাবাহিকতাতে তরুণদের কাছে তো আমাদের প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি। আমি আশা করি তারুণ্য-প্রভাবিত এ মন্ত্রিসভা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে যথার্থভাবে চিহ্নিত ও সম্পাদন করতে পারবে। সুশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করতে তারা যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছ পা হবে না- আমি মনে করি সেটাই আপামর জনসাধারণেরও প্রত্যাশা। নতুন এ সরকারের প্রতি আমাদের চাওয়া হলো- সামাজিক শান্তি-নিরাপত্তা, নারীর নিরাপত্তার মতো সাদামাটা বিষয়গুলোই যে খুব গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টা যাতে তাদের কাছে প্রাধান্য পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমকালকে বলেন, যারা নতুন মুখ হিসেবে মন্ত্রিসভায় এসেছেন তারা মন্ত্রী হিসেবে নতুন, কিন্তু নেতা হিসেবে নন। তারা এর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের নেতৃত্বের দক্ষতার পরীক্ষায় তারা বার বার উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবার তারা মন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। আওয়ামী লীগের মতো একটা বড় দলে নেতৃত্বের বৈচিত্র্য আছে এবং যোগ্য নেতৃত্বেরও অভাব নেই। এবারের মন্ত্রিসভা গঠন তারই একটি প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্য দিয়ে সরকারের কার্যক্রমে আরও বেশি গতিশীলতা নিয়ে আসার প্রথম কাজটি সম্পাদন করলেন। তিনি আরও বলেন, পুরনো যারা মন্ত্রিসভায় এবার নেই তারাও দলের জন্য এখনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই যে পুরনোদের বদলে নতুনদের নিয়ে আসার যে সন্ধিক্ষণ সেটাও অত্যন্ত সম্মানজনক পন্থায় হয়েছে, এটাও রাজনীতিতে শুভ নজির হিসেবে থাকবে। পুরনোদের অনেকেই আছেন। ফলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের নতুন চিন্তায় এই সরকার বাংলাদেশের জন্য আরও সম্মান, আরও সাফল্য বয়ে আনবে- এই প্রত্যাশা শুরু থেকেই থাকছে।

পুরনোদের মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য অবদান রেখেছেন। নতুন যারা এসেছেন তারা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুনধারায় চিন্তা করতে পারেন। এ বিষয়টি আরও বিশ্নেষণ করে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের মূল্য রয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছেন জনগণের ওপর তাদের একটি প্রভাব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে আরেক রকমের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা রয়েছে। মন্ত্রিসভায় দুই ধরনের নেতাদেরই প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রীদের রুটিন কাজ জনগণ বুঝবে না। জনগণ দেখবে মন্ত্রীরা দেশের উন্নয়নে কতটা অবদান রাখছেন।

নতুনদের বেশি সংখ্যায় মন্ত্রিসভায় আসার মধ্য দিয়ে একই দল ক্ষমতায় থাকলেও সরকার পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গিতেও একটা বড় পরিবর্তন দেখা যাবে বলে মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রতীর প্রধান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ শারমীন মুর্শিদ। তিনি বলেন, পুরনোরা বেশি সংখ্যায় থাকলে মনে হতো আগের নিয়মেই সরকার চলবে। অর্থাৎ আগের মতোই চিন্তা-ভাবনা, কাজের পদ্ধতি এবং আগের কিছু অনিয়ম থাকলে সেগুলোও থেকে যাবে। নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাটিই জনগণের সামনে স্পষ্ট করেছেন। নতুনরা এসেছেন, তারা অবশ্যই তাদের চিন্তায়, পরিকল্পনায়, কাজে ভিন্ন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। তাদের মধ্যে ভালো কিছু করে মানুষের কাছে নিজেদের যোগ্যতর হিসেবে উপস্থাপনেরও একটা আগ্রহ থাকবে।

অনেকেই বলছেন, সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতা দরকার হয়, নতুনদের অভিজ্ঞতা কম। আমার বিবেচনায় মন্ত্রিত্বের জন্য অভিজ্ঞতা খুব জরুরি কিছু নয়। কারণ মন্ত্রিত্বের পূর্ব অভিজ্ঞতা খুব বেশি মানুষের থাকে না। বরং নতুন মন্ত্রী হয়েও যদি দক্ষতা, সততায় নতুন কিছু করে দেখাতে পারেন সেটাই বরং অনেক বেশি ইতিবাচক হবে জাতির জন্য। তারই একটা শুভ সূচনা এই মন্ত্রিসভা। তিনি আরও বলেন, আগের মন্ত্রিসভার বিতর্কিত একাধিক চরিত্র বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও প্রমাণ করেছেন, বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে তার সদিচ্ছা রয়েছে। একটা সময়ে যখন কোনো বিতর্কিত চরিত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়েছে, তখনকার বাস্তবতায় না পারলেও পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী সেই চরিত্রকে বাদ দিয়ে সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া শুভ পরিবর্তনের অঙ্গীকার পূরণ করেছেন।

আরও পড়ুন

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা, গুলিতে কিশোর নিহত

কানাইঘাট সীমান্তে বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা, গুলিতে কিশোর নিহত

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে চোরাচালান জব্দ করতে গেলে বিজিবি সদস্যদের ওপর ...

হোয়াটসঅ্যাপে একই বার্তা পাঁচবারের বেশি পাঠানো যাবে না

হোয়াটসঅ্যাপে একই বার্তা পাঁচবারের বেশি পাঠানো যাবে না

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং সার্ভিস ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানো কিছু দেশের ...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‌্যাবের অভিযান, আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১৫টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একজনকে ...

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

বদির তিন ভাই 'সেফহোমে'

স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবাকারবারিরা এখন কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে এক ধরনের ...

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি ...

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

পেশা পাল্টাচ্ছে পাঁচুপুরের কামার কুমার জেলেরা

কামারপাড়া। ভেবেছিলাম পাড়ায় ঢুকতেই হাঁপর আর লোহা পেটানোর শব্দ শোনা ...

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

স্বেচ্ছাশ্রমে ১০ কিলোমিটার রাস্তা

'দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ'- এ প্রবাদটিকে ...

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

এমএম কলেজে নির্বাচনে বাধা গঠনতন্ত্র

গঠনতন্ত্রের 'সামান্য বাধা'য় দেয়াল উঠেছে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ...