দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২২ শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ হল ছাড়া করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আবাসিক হল লালন শাহ থেকে বের করে দেওয়া হয় তাদের। তারা সবাই ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের কর্মী বলে জানা গেছে। 

বুধবার সারাদেশের মতো ইবিতেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে দলীয় কর্মীদের অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা; কিন্তু নির্দেশ উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মী আন্দোলনে অংশ নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২২ কর্মীকে চিহ্নিত করে ১১ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় সভাপতির আস্থাভাজন কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদ সজল ও আবুল খায়ের মোল্লা। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাবিব, আশরাফুল, মেহেদী, লিমন, ফয়সাল, শাকিল, মেহেদী হাসান, নাইম, শিমুল, একই শিক্ষাবর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিল্লাল, আশিক, রাশেদ, আশানুর, মেহেদী, রাসেল, রাব্বুল, রবিউল, আশিকুর এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আশিক, নিশাত ও একই বর্ষের আরও দু'জন। তাদের মধ্যে বিল্লাল ও আশানুর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। 

বুধবার রাত পৌনে ১১টায় তাদের নিজ কক্ষে ডেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার আলটিমেটাম দেয় সজল ও খায়ের। সময় মতো হল না ছাড়লে জোর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানায় ভুক্তভোগীরা। এর আগে সন্ধ্যায় সভাপতি শাহিন হলে এসে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের হাবিব বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমরা ছাড়াও আরও অনেক কর্মী আন্দোলনে ছিলেন। কিন্তু কেবল আমাদের কয়জনকেই হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন ছাত্র হিসেবে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এটা আমার অপরাধ নয়। 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। ওদের একটু বকাঝকা করা হয়েছে। এখন ওদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আমি এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।