ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়ার আশা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০১৮     আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৮   

সমকাল প্রতিবেদক

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

দ্বীপ জেলা ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ভেদুরিয়ায় একটি অনুসন্ধান কূপে দুটি স্তরে গ্যাস থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়ার কথা জানান। এখানে ৬০০ বিসিএফ (বিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাপেক্স জানিয়েছে, এই গ্যাসের মজুদ এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হবে কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। ভোলা উত্তর-১ নামের কূপটি খনন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম।

জ্বালানি সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ভেদুরিয়ায় গ্যাস পাওয়া গেলে সেটি হবে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র।

গতবছর নভেম্বরে ভোলার বিদ্যমান শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের শাহবাজপুর পূর্ব-১ নামের একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পায় বাপেক্স। গত নভেম্বর থেকে এখান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ভেদুরিয়ার নতুন কূপ খননের কাজ শুরু হয় গত ডিসেম্বরে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভেদুরিয়ায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

শাহবাজপুর পূর্ব-১ থেকে পরীক্ষামূলক উত্তোলন শুরুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, এর আগেও বলেছিলাম, ভোলায় গ্যাস পেয়েছি। নতুন আরেকটা কূপ খনন করে সেখানেও প্রায় ৬০০ বিসিএফ গ্যাস আবিস্কৃত হয়েছে। ভোলায় মোট মজুদ এক দশমিক পাঁচ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)।

বৈঠকের পর পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ওই ক্ষেত্রে ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। সেখানে খনন করা হলে আরও গ্যাস পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভোলায় গ্যাসের সন্ধানে আরও কূপ খননের ওপর গুরুত্ব দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র্র করে সেখানে এই গ্যাস ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনে পাইপলাইনের মাধ্যমেও ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা হবে।

বাপেক্স সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বরে ভোলা উত্তর-১ কূপের খনন শুরুর পর চলতি মাসের প্রথম দিকে মাটি তিন হাজার ২৩৬ থেকে তিন হাজার ২৪৫ মিটার গভীরতায় একটি ৯ মিটারের 'স্যান্ড লেয়ার' পায়। এরপর তিন হাজার ২৬০ থেকে তিন হাজার ২৮৫ মিটার গভীরতায় আরেকটি 'স্যান্ড লেয়ার' পায়। 'স্যান্ড লেয়ার'ই গ্যাস পাওয়া যায়। এ কূপটি তিন হাজার ৪৫০ মিটার পর্যন্ত খননের কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. হাসানুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে এখানে গাস আছে। তবে আরও কিছু পরীক্ষা করলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। সেজন্য কয়েক দিন সময় লাগবে।