একটি সংঘবদ্ধ চক্র গোপন কার্যালয় বানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নামে চাঁদাবাজি করছে। দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে তারা। এরই মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) ওসিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একজন উপপরিচালকের নামে।

দুদক সূত্র জানায়, ওই নোটিশে পার্বতীপুরের জনৈক মো. সিয়াম ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দুদকের ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে পার্বতীপুরের রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই উপপরিচালক ওই নোটিশ পাঠাননি বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা দুদকের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তারা দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানের কথা বলছে। ওই চিঠিতে দুদক কর্মকর্তার নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর, সিল ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের ব্যক্তিদের ফোন করে দুদকে অভিযোগ আছে বলে ভয় দেখাচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজদের নানা অপতৎপরতার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে দুদক।

দুদক থেকে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সশরীরে, টেলিফোনে, মোবাইলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আছে বলে জানায়। পরে অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাসহ দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণম্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুদক এক বিবৃতিকে বলেছে, দুদক কারও বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করলে চিঠি দিয়ে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হয়। ফোনে যোগাযোগ করার আইনগত কোনো বিধান নেই। দুদকের নামে অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কখনও সন্দেহজনক মনে হলে বা এরূপ কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দুদক হটলাইন ১০৬, দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল :০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেকের (মোবাইল :০১৭১১-৫৭৩৮৭৪) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে নিকটস্থ দুদক কার্যালয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।