মিসরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে জলবায়ু সম্মেলনের প্রথম খসড়া চুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা গতকাল বৃহস্পতিবার এ খসড়া প্রকাশ করেছে। জলবায়ু নিয়ে আলোচনা এটি একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এতে আরও তথ্য যুক্ত হবে। তবে এই খসড়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তহবিল গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে চলমান কপ২৭ সম্মেলনেই এ তহবিল গঠন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর মন্ত্রীরা এ দাবি তুলেছেন। খবর রয়টার্সের।

খসড়া নথিতে গত বছর গল্গাসগোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনের চুক্তির গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল গত সম্মেলনে। এবারের খসড়ায় কয়লা ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব স্তরে প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের মাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে যা যা করা দরকার, তাই করা হবে। গতকাল ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারমুডার পরিবেশমন্ত্রী মলউইন জোসেপ বলেন, এবারের সম্মেলনে ক্ষতিপূরণে তহবিল গঠন করা না গেলে তা পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা মানুষের সঙ্গে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের জোরালো দাবি জানানো হলেও ধনী দেশগুলো এর বিরোধিতা করে আসছে। ধনী দেশগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের কোনো চুক্তি হলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে তাদের বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের মুখপাত্র ঘানার কোকোফু বলেন, এই সম্মেলনে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়নি। এ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সম্মেলন ব্যর্থ হবে।

এবারের সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বিশ্বকে বাচাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্যারিস সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, গ্রিনহাওস গ্যাস নির্গমন কমানোর কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত এই কপেও গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল বা আইপিসিসি বলছে একুশ শতকের শেষ নাগাদ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের চেয়ে বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ২০১০ সালের মাত্রার ৪৫% নির্গমন হ্রাস করতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। তবে নির্গমন হ্রাসের পদক্ষেপ এর ধারে কাছেও নেই। নির্গমন হ্রাসের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল গত বছর অনুষ্ঠিত গল্গাসগো কপে।