জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন কপ২৭ শেষের দিকে। দুই সপ্তাহব্যাপী এ সম্মেলন এরই মধ্যে দেড় সপ্তাহ পার করেছে। কিন্তু এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ও ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। সব মিলিয়ে মিসরের শার্ম আল-শেখে চলমান জলবায়ু সম্মেলনে সম্ভাবনার আলো মিটমিট করে জ্বলছে।

গতকাল বুধবার কপ২৭-এর কনভেনশন ধারায় দুটি, কিয়োটো প্রটোকলের ধারায় দুটি এবং প্যারিস চুক্তির ধারায় চারটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। কোনো খসড়া চুক্তি তৈরি করা হয়নি। ফলে সহজেই অনুমেয়, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে একটি খসড়া হয়তো হবে, কিন্তু তা প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে না। গতকাল উচ্চ পর্যায়ের সভার দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ দিনের আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য দেন নির্বাচিত আন্তঃসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।

এর আগে মঙ্গলবার মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানেও কোনো অঙ্গীকার ঘোষিত হয়নি। এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি) জানায়, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের সর্বোচ্চ সীমা ২০২৫ সালের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। এর মানে, দুই বছর পর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। আইপিসিসির গ্রুপ-৩ এর কো-চেয়ার জিম সেকা বলেন, গত কয়েক বছরে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে। এগুলোর ব্যবহার গ্যাস নির্গমন কমাতে আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে গতকাল কয়েকটি দেশ, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ও ইউএনএফসিসিসি উন্নয়নশীল দেশগুলোয় পাঁচ বছরের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ইউএনএফসিসিসি এবং টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ কমিটি (টিইসি) ও ক্লাইমেট টেকনোলজি সেন্টার অ্যান্ড নেটওয়ার্ক (সিটিসিএন) কার্বন নির্গমন হ্রাস ও অভিযোজন- উভয় ক্ষেত্রে ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র দেবে ৩০ লাখ ডলার। জার্মানি এ জন্য টিইসিকে ১৫ লাখ ইউরো এবং সিসিটিএনকে ৫ লাখ ইউরো দেবে। কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিটিসিএনকে দেবে যথাক্রমে ৬০ লাখ ও ২০ লাখ ইউরো। সহায়তা জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও দেবে।