সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় বেষ্টনী গড়ে তুলতে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সুন্দরবনের যেসব নদী খাল মরে গেছে, সেসব এলাকার ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জাল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে ভারতের বন বিভাগ তাদের সুন্দরবন অংশেও জাল দিয়ে সুফল পেয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে তৃতীয়বারের মতো ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের জরিপ পরিচালনা, বাঘের শিকার প্রাণী- হরিণ ও শূকরের সংখ্যাও গণনা করা হবে।

শুক্রবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

মন্ত্রী জানান, লোকালয়ে বাঘের আসা ঠেকাতে নাইলনের ফেন্সিং বা বেষ্টনী তৈরিসহ বাঘ সংরক্ষণ ও গবেষণা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে। তিন বছর মেয়াদি 'সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের' আওতায় এসব কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান তিনি। বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী বাঘ হত্যায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এটিকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাঘের অবাধ বিচরণ ও বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকাকে রক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন।

আলোচনা করেন আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রাকিবুল আমিন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান এবং বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে।