ক্রমেই ধ্বংস হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। বনাঞ্চল বাঁচাতে দরকার স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততায় বন ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার।

বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আরণ্যক ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'প্রায়োরিটিজ অব ফরেস্ট ল্যান্ডস্কেপ রিস্টোরেশন অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস' শীর্ষক সেমিনারের বক্তারা এ কথা বলেন।

আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রাকিবুল হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ফরেস্ট ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন স্পেশালিস্ট ড. মহা. আব্দুল কুদ্দুস। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আবদুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ এবং প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী।

বক্তারা পাহাড়ের পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপন্ন হওয়ার জন্য শুধু জুম চাষকে দায়ী করা যথার্থ নয় বলে মনে করছেন। তারা উন্নয়নের নামে সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ফল ও ফসলের আবাদের জন্য উৎসাহ দেওয়া, পাহাড়ের গাছপালা কেটে দেশি-বিদেশি ফলের গাছ লাগানো, ব্যবসায়ীদের ঝিরির পাথর উত্তোলন করে পানির প্রবাহ ও পানি ভূগর্ভে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করা, বাঁশ ঝাড় কেটে জুম চাষের মতো বিষয়গুলোকেও তারা এ ক্ষেত্রে দায়ী করছেন।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বনের প্রতিবেশ সেবা থেকে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে নানা মাত্রায় বনভূমি উজাড় চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ব্যাহত হবে। তাই প্রতিবেশ সেবা পুনরুদ্ধারে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।