জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের ওপর তামাকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এ জন্য তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যে সম্পূরক শুল্ক্ক বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট করারোপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীর ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি ২৫ গুণ। দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুস সংক্রমণে (সিওপিডি) ধূমপায়ীদের মৃত্যুঝুঁকি অধূমপায়ীর তুলনায় ১৩ গুণ পর্যন্ত। অধূমপায়ী হয়েও দেশের ৪ কোটির বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন, যাঁদের অধিকাংশই নারী। আচ্ছাদিত কর্মস্থল ও গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ব্যক্তির সংখ্যা যথাক্রমে ৮১ লাখ ও আড়াই কোটি।
এমনই এক পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক চাষ, তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার এবং তামাকের বর্জ্য পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সে বিষয়ে জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- 'তামাক :আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকি'। অন্যদিকে বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে 'তামাকমুক্ত পরিবেশ, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্য নিয়ে।
প্রগতির জন্য জ্ঞানের (প্রজ্ঞা) প্রকল্পপ্রধান (তামাক নিয়ন্ত্রণ) মো. হাসান শাহরিয়ার জানান, শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপক। বিশ্বের মোট তামাকের ১ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। আবাদযোগ্য জমিতে তামাক চাষের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী সমকালকে বলেন, বাংলাদেশেও ধূমপায়ীদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই ফুসফুসের রোগ থাকতে পারে অথবা ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। করোনা আক্রান্ত হলে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিজে ও পরিবারের অন্যদের সুস্থতার জন্য তামাক ব্যবহার ছেড়ে দেওয়া উচিত।