ঢাকা লিস্ট ফেস্ট :উৎসবের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৭      

ফাতেমা আবেদীন

ঢাকা লিট ফেস্টের সঙ্গে এখন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বাহুল্য। ২০১৭ সালে সাত বছরে পা দেওয়া এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব এখন সর্বজনবিদিত। হে অন ওয়াইয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা উৎসবটি গত তিন বছর ধরে শুধুই ঢাকার উৎসব বলে পরিচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয় ভাষা। ঢাকা লিট ফেস্ট সেই বাধা কাটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিভাষিক সাহিত্য উৎসবের মর্যাদা পেয়েছে। উৎসবটিকে সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণকেই দিতে চান এর তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্‌ এবং আহসান আকবার। একই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির অবদানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। সবাই মিলেই এই উৎসব।

লিটারারি ফেস্ট বলে এটিকে শুধু সাহিত্য উৎসবের সীমায় বেঁধে রাখলে ভুলই হবে। বিশ্বের নানা সংকট, সাংবাদিকতা, গবেষণা, অঙ্ক, সমাজ, বিজ্ঞান, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, অর্থনীতি এমনকি নিরাপত্তাসহ আরও নানা বিষয় এ উৎসবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিটি আলোচনার শেষে দর্শক অংশগ্রহণের সুযোগটিকে আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ বলেই ধরে নেওয়া যায়। লেখক, আলোচকদের আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে নিজের মত বা দ্বিমত বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রকাশ করা যায়।

প্রতিবারের মতো এবারও ভিন্নতা নিয়ে এসেছে ঢাকা লিট ফেস্ট। ২৪ দেশের দুই শতাধিক অতিথি, শতাধিক আলোচনার সেশন তিন দিনে বাংলা একাডেমির মঞ্চ মাতিয়ে রেখেছিল। যাদের বই পড়ে বড় হওয়া কিংবা যাদের শুধুই টিভিতে দেখা হয়েছিল, সেইসব লেখক বা তারকা বাংলা একাডেমিতে এসেছিলেন। সিরিয়ান বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত কবি আদোনিস কিংবা অস্কারবিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন তিন দিনই আলোকিত করে রেখেছিলেন উৎসব প্রাঙ্গণ।

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন উইলিয়াম ডালরিম্পল, মার্কিন সাহিত্যিক লিওনেল শ্রিভার, বুকারজয়ী নাইজেরিয়ান লেখক বেন ওকরি, বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান জাস্টিন রোলেট, ভারতীয় কথাসাহিত্যিক ও অভিনেত্রী নন্দনা সেন, লেখক এসথার ফ্রয়েড প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আসাদ চৌধুরী, আনিসুল হক, সলিমুল্লাহ খান, কায়সার হক, খাদেমুল ইসলামসহ দেড় শতাধিক সাহিত্য ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ছিল।

ছিলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা। লেখক ও সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বললেন তার লেখক জীবনের আদ্যোপান্ত। প্রথিতযশা লেখক আহমাদ মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় উঠে এসেছিল লেখক ইমদাদুল হক মিলনের জীবনের সুখ-দুঃখ। দেড় ঘণ্টার সেশনে লেখক জানালেন, তিনি শুধু লেখকই হতে চেয়েছিলেন। বাংলা একাডেমির লনে ভাগ করে নিলেন নিজের সুখ-দুঃখগুলো।

তিনি ছাড়াও ছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ শরীফ, মুন্নী সাহা, জুলফিকার রাসেল, জাফর সোবহান, হারুন উর রশীদ, মুস্তাফিজ শফি, মাহবুব আজীজ, মাসুদা ভাট্টি, মিথিলা ফারজানা, নবনীতা চৌধুরী, আলিম আজিজ প্রমুখ। এ ছাড়াও বিবিসির জাস্টিন রোলেট, টাইমস ইন্ডিয়ার জ্যোতি মালহোত্রা, গ্রান্টার অনলাইন সম্পাদক লুক নেইমা, এবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাংবাদিক চার্লস গল্গাসসহ অনেক বিদেশি সাংবাদিক ছিলেন এই আয়োজনে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিন দিনের অনুষ্ঠানসূচি পড়তে পড়তে একজন দর্শক পাশেরজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন, সাহিত্য উৎসবে এত সাংবাদিক কেন?

উত্তরটা খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল তিন দিনের সেশনগুলো থেকে। রোহিঙ্গা সংকট, ভাষার রাজনীতি, দেশভাগ, ফেইক নিউজ, ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা কিংবা ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়েও আলোচনার উন্মুক্ত প্যানেল ছিল এই আয়োজনে। সেখানেই সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ খুব স্পষ্ট ছিল।

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ছিল দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের পর পর দুটি সেশন।

এত গেল সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের কথা। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন, লিট ফেস্টের সেশন শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবল্পূব্দ শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে। ১৬ নভেম্বর লিট ফেস্টের উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার কবি আদোনিস হাতে তুলে নিলেন বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত গ্রাফিক নভেলা মুজিব। একজন সাধারণ মানুষ থেকে কীভাবে সুপারহিরো হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু সেই গল্পই বলা হয়েছিল গ্রাফিক নভেলা মুজিববিষয়ক সেশনে।

এরপর শুরু হয় সাহিত্য আলোচনা। সিরিয়ার কবি আদোনিস বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন কবি জীবনের কথা। কীভাবে তিনি আলী আহমেদ সাঈদ থেকে আদোনিস হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাদেশি কবিদের মতো দুঃসময় তার জীবনেও ছিল। সিরিয়ায় তিনি যখন কবিতা লেখা শুরু করেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সেসব ছাপানোর জন্য পাঠাতেন তিনি। কিন্তু ছাপা হয়নি একটিও। এর পর দেশত্যাগ। আস্তে আস্তে আরব কবি হিসেবে বিশ্বে স্থান করে নিলেন তিনি। শুধু আদোনিস নন, তার মতো করেই মঞ্চে এসেছিলেন বাংলাদেশি কবি হেলাল হাফিজ এবং কামাল চৌধুরী। স্মৃতি বলে, সে সময় মঞ্চের আশপাশে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। হেলাল হাফিজ স্বকণ্ঠে পড়লেন নিজের কবিতা। বললেন নিজের গল্প। সে সময় মঞ্চের বাইরে দর্শক সারিতে বসেছিলেন অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন এবং লেখক বেন ওকরি। দু'জনে দর্শক স্বতঃস্ম্ফূর্ততা দেখে পড়তে চাইলেন স্বরচিত কবিতা। ভাষার কত পার্থক্য তবু সবাই বুঝে নিয়েছিলেন কবিদের দ্যোতনা। অভিনেত্রী টিলডার পাশাপাশি লেখক টিলডাকে আবিস্কার করেছিল বাংলাদেশের মানুষ। টিলডা নিজেই আফসোসের কথা জানালেন। কেন ৩০ বছর লেখালেখি থেকে দূরে ছিলেন, সেটি এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

ঢাকা লিট ফেস্ট ফ্যাক্ট : সাহিত্য উৎসব বলে সুপরিচিত হলেও এই উৎসব সাহিত্য ছাপিয়ে জনমানুষের কাছে পৌঁছেছে। জনমানুষের কয়েকটি কারণে সাহিত্যের এত বড় উৎসবকে আপনি অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।

১. লিট ফেস্ট সংকটের কথা বলে : রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সেশন ছাড়াও সিরিয়ার যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, দেশ বিভাগের সংকট, বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতি, জঙ্গিবাদ সবকিছু নিয়েই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এই সেশনে। ঢাকা লিট ফেস্টের এই আলোচনায় হয়তো সংকট সমাধানের সুযোগ নেই, কিন্তু গোটা দুনিয়ার কাছে সংকটগুলোর চিত্র তুলে ধরা গেছে ভীষণভাবে।

বিবিসির সাংবাদিক জাস্টিন রোলেট রোহিঙ্গা ইস্যুবিষয়ক সেশনে আলোচক ছিলেন। আয়োজন শুরুর বেশ কিছুক্ষণ পরে তিনি যোগ দেন সেশনে। জাস্টিন রোলেট যখন ঢুকলেন তখন সবাই অবাক, তার পায়ে কাদামাটি, পোশাক মলিন। জাস্টিন জানালেন, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিতে তিনি কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বিমানে এসে সরাসরি এই আয়োজনে অংশ নেন। তিনি ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজকদের ধন্যবাদ দেন এমন একটি সংকট নিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখার জন্য।

২. নারীদের অবারিত প্রাঙ্গণ : নারী লেখকদের আলাদা করে পরিচয় করে দেওয়া নয়, বরং নারীদের অবদানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে লিট ফেস্টে আয়োজনের কমতি ছিল না।

ছিল নারীদের লাঠিখেলা। দর্শক মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছে এই আয়োজন। বাংলার নারী যুগে যুগে কীভাবে দুর্জয় ঘাঁটি হয়ে উঠেছে, সেই আলোচনার সুযোগও ছিল ঢাকা লিট ফেস্টে। অন্যদিকে ধর্ষণের মতো বড় সংকট নিয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিক মুন্নী সাহা, সমাজবিজ্ঞানী সাদেকা হালিমসহ অনেকে। সমাধানের জন্য সমাজে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে, সেটিও তুলে ধরেছেন।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল হার স্টোরিজ নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। এক মলাটে ২১ সুপার গার্লের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই আয়োজনে। 'হার স্টোরিজ অ্যাডভেঞ্চারস অব সুপারগার্লস' বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বইটির ওপর আলোচনা করেন বইটির অন্যতম রিসার্চ কিউরেটর ড. সিউতি সবুর, স্কলাস্টিকা স্কুলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাদিহা মোরশেদ এবং চার সুপারগার্ল নাইমা হক, তামান্না-ই-লুৎফী, নিশাত মজুমদার ও মাবিয়া আক্তার। ছিল দেশি-বিদেশি নারী লেখক ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিশেষ সেশন 'উইম্যান আর্ট অ্যান্ড পলিটিক্স'। বক্তাদের কথায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের নারীদের প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা উঠে আসে। এবং সবশেষে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, নারীদের প্রতি অসহিষষ্ণুতা রোধে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে পুরুষদের।

৩. এটি শিশুদের উৎসব : ঢাকা লিট ফেস্ট কেবল বড়দের আয়োজন, এই তকমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লিট ফেস্টে শিশুদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। তাদের গল্প শোনাতে দিল্লি থেকে এসেছিলেন শিশুসাহিত্যিক নন্দনা সেন। পর পর দুটো সেশনে নিজের লেখা বই থেকে গল্প পড়ে শোনান নন্দনা। এর পর ছিল বইয়ে অটোগ্রাফ দেওয়া। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এসেছিলেন নতুন করে সাত ভাই চম্পার গল্প বলতে। বটতলার পরিবেশনায় ছিল সুকুমার রয়ের নাটক। এদিকে অঙ্ক শেখানোর বিশেষ সেশন ছাড়াও ছিল আরও অসংখ্য আয়োজন। শিশুদের বইয়ের প্রকাশ করে এমন প্রকাশনা সংস্থাও ছিল লিট ফেস্টে। লিট ফেস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ছিল শিশুদের অবারিত উপস্থিতি।

৪. সাহিত্যের আরেক দিক চলচ্চিত্র : চলচ্চিত্রে সাহিত্যের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তেমনি সাহিত্যেও চলচ্চিত্রের প্রভাব কম নয়। বাংলাদেশের লেখক কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র নিয়ে ছিল আলোচনা। অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেতা রিয়াজসহ অনেকেই তুলে ধরেন হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রবিষয়ক কর্মকা। হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নুহাশ হুমায়ূন এসেছিলেন তার নির্মিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পেপারফ্রগের উদ্বোধনী প্রদর্শনী নিয়ে।

আর অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রি টিলডা সুইন্টনের কথা তো বলাই বাহুল্য। চলচ্চিত্রের জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে বারবার লেখক জীবনের কথা বলেছেন তিনি। এই মঞ্চেই প্রদর্শিত হয়েছে টিলডা ও তিন পরিচালকের নির্মিত লেখক জন বার্জারকে নিয়ে ছবি।

লিট ফেস্টের সর্বশেষ চমক ছিল নেটফ্লিক্স পরিবেশিত বিশেষ ছবি ওকজা।

৫. পুরস্কারের মঞ্চ : গত বছর থেকে ঢাকা লিট ফেস্টের মঞ্চেই ঘোষিত হয়ে আসছে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার। এবার সেই মঞ্চে যুক্ত হলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাহিত্য পুরস্কার ডিএসসি প্রাইজ। এবারের ডিএসসি প্রাইজজয়ী শ্রীলংকান লেখক অনুক পুরস্কার পেয়ে ঘোষণা দিয়ে দিলেন, এ অর্থ তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোতে বিলিয়ে দেবেন।

৬. বই, সাহিত্য জার্নাল আর বই : বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লিট ফেস্টের আলোচনার মঞ্চ ছাড়া চোখে পড়ার মতো নাকি শুধু খাবারের দোকান ছিল। কিন্তু এটি ডাহা মিথ্যা কথা। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল বইয়ের দোকান। বেঙ্গল লাইটস বুকস, কাগজ প্রকাশন, প্রথমা, বাংলা একাডেমি প্রকাশন, ডেইলি স্টার বুকস, জার্নিম্যান, ইউপিএল, বুকওয়ার্মসহ ছিল ২০টির অধিক বইয়ের দোকান।

মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ১৫টির বেশি বইয়ের। বিশ্বখ্যাত সাহিত্য জার্নাল গ্রান্টার মোড়ক উন্মোচিত হয় এই আয়োজনে। এর আগে মোড়ক উন্মোচন হয়েছিল ব্রিটিশ সাহিত্য জার্নাল ওয়াসিফিরি'র বাংলাদেশ ইস্যু। গ্রান্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এর পরেরবার বাংলাদেশের সাহিত্যি নিয়ে তারা একটি সংখ্যা করবে। মোট কথা ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজন তিন দিনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর কর্মব্যাপ্তি বছরজুড়ে। লিট ফেস্টকে সামনে রেখে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অনুবাদ নিয়ে কাজ করে ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টার। আর অনূদিত বইগুলো প্রকাশ করে বেঙ্গল লাইটস বুকস প্রকাশনী থেকে। এ পর্যন্ত ১৫টির বেশি বই অনূদিত হয়েছে, এর মধ্যে হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ শামসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, রাজিয়া রহমান এবং কামাল চৌধুরীর বই উল্লেখযোগ্য। মোড়ক উন্মোচন হয়েছে আনিসুল হকের লেখা রূপকথার বইয়ের। সুপারগার্লদের নিয়ে লেখা 'হার স্টোরিজ'।

লিট ফেস্টের উদ্বোধনে এর অন্যতম পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ বলেছিলেন, 'এ উৎসব আয়োজন আমরা কেন করি, তা অনেকে জানতে চান। এর উত্তর হলো- আমরা সাহিত্য ও শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে চাই। ভাষাভাষীর দিক থেকে বাংলা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। এই সংস্কৃতি আমাদের এতই ঘিরে রাখে যে, আমরা অন্য দেশের সংস্কৃতির দিকে তাকানোর সুযোগ পাই না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমরাও চাই, আমাদের ভাষা-সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে, বিশ্বের সামনে আমাদের ভাষা-সাহিত্যকে তুলে ধরতে। লিট ফেস্টেও আমাদের মূল মনোযোগের জায়গায় থাকে আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি।'

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। বরং প্রত্যাশা বাড়ে ঢাকা লিট ফেস্ট কেবল আমাদের পাঠকদের জন্য বিশ্বের সাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগের মেলবন্ধন হয়ে রইবে না, উপরন্তু বিশ্বসাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করবে আমাদের নবীন সাহিত্য প্রতিভাদের তুলে ধরে।

পরবর্তী খবর পড়ুন : দিনটি কেমন যাবে

উন্নয়ন বনাম 'এরশাদ'

উন্নয়ন বনাম 'এরশাদ'

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রংপুর শহরের যে কোনো ভোটে কখনোই হারেনি ...

 জনশক্তি রফতানিতে বিশৃঙ্খলা দালালদের দাপট

জনশক্তি রফতানিতে বিশৃঙ্খলা দালালদের দাপট

জনশক্তি রফতানি বছর বছর সংখ্যায় বাড়লেও, আসেনি শৃঙ্খলা। চলতি বছরে ...

মহাজোটে মহাজট বিএনপিতে বাগ্‌যুদ্ধ

মহাজোটে মহাজট বিএনপিতে বাগ্‌যুদ্ধ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ১৯ কূটনীতিক

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ১৯ কূটনীতিক

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ১৮ দেশের ১৯ জন ...

'বিদেশগামীদের কাছে বাড়তি টাকা নিলে ব্যবস্থা'

'বিদেশগামীদের কাছে বাড়তি টাকা নিলে ব্যবস্থা'

অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ...

আইনজীবীর সাজা, বীরগঞ্জের সাবেক এসিল্যান্ডকে তলব

আইনজীবীর সাজা, বীরগঞ্জের সাবেক এসিল্যান্ডকে তলব

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বাকবিতণ্ডার জের ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জ্যেষ্ঠ এক ...

এমপির মেয়েকে ছুরিকাঘাতে আটক হয়নি কেউ

এমপির মেয়েকে ছুরিকাঘাতে আটক হয়নি কেউ

বাগেরহাটে শনিবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হ্যাপী বড়ালের মেয়ে অদিতি ...

শিবপুরে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ২ কিশোরীকে ধর্ষণ!

শিবপুরে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ২ কিশোরীকে ধর্ষণ!

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় দুই কিশোরীকে কোমলপানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ...