'সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বইয়ের পাঠক কমছে না'

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

সাদাত হোসাইন

সমকালীন পাঠকনন্দিত তরুণ লেখক সাদাত হোসাইন। তার লেখা উপন্যাস ‘আরশিনগর’, ‘অন্দরমহল’ও ‘মানবজনম’ রীতিমত বিস্মিত করেছে পাঠককে। সাদাত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথেও জড়িত। তার নির্মিত ‘বোধ’ ও ‘দ্য শ্যুজ’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো আলোড়ন তুলে দর্শকের মাঝে। মেহেদী শামীমের উপস্থাপনায় ৯৬.৪ স্পাইস এফএমের ‘রাইজিং বাংলাদেশ’র ৯ম পর্বের অতিথি হয়ে তিনি শ্রোতাদের শুনিয়েছেন এসময়ের পাঠকদের চাহিদা ও তার লেখালেখি জীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গে। এবারের বিষয় ছিলো ‘সোশ্যাল মিডিয়া কি বইয়ের পাঠক কমাচ্ছে?’ ‘রাইজিং বাংলাদেশ’ গ্রন্থনা ও প্রযোজনা করেন জামিল আশরাফ খানদৈনিক সমকাল এই অনুষ্ঠানটির প্রিন্টিং পার্টনার। পাঠকদের জন্য অনুষ্ঠানটির সাক্ষাৎকার পর্বের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

এই বছর বই মেলায় আপনার লেখা বই ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ প্রকাশিত হয়, বইটির প্রতি পাঠকদের আগ্রহ কেমন ছিল?
একটা সময় ছিল যখন বই মেলায় একটা বই কতটা জনপ্রিয় হলো সেই তথ্য জানতে সময় লাগতো। এখন ডিজিটালাইজেশনের কারণে এটা খুব সহজে ও দ্রুত জানা যায়। অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো বই বিক্রির উপর সহজে রেটিং করে ফেলে। সেই জায়গা থেকে আমার ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ বইটি শীর্ষ স্থানে ছিল। এতেই বইটির প্রতি পাঠকদের আগ্রহ জানা যায়।

ডিজিটালাইজেশনের যুগে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর কারণে ছাপার বইয়ের পাঠক কমে যাচ্ছে বলে কি মনে করেন?
একটা সময় আমাদের অবসর কাটতো বই পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন বিনোদনের জায়গাটা বেড়েছে। তাই তুলনামূলকভাবে পাঠক কমে যাচ্ছে এটা সত্য। অন্যদিকে বই বিক্রির প্রচারণায় সোশ্যাল মিডিয়াগুলো বিশাল ভূমিকা রাখছে। বিনোদনের  এত অপশন থাকার পরও শেষবার বইমেলাতে রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে। আমার মনে হয় যারা প্রকৃত অর্থে পাঠক তারাও সরাসরি লেখক ও তাদের বই সম্পর্কে তারা জানতে চায়। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণেই কিন্তু লেখকরা খুব কাছে থেকে পাঠকদের মনোভাব জানতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন পাঠকদের সাথে লেখকের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে, বিষয়টি কিভাবে দেখেন?
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হুমায়ূন স্যারের লেখা দেশের বাইরে অনেকেই পড়েন। এছাড়া অন্য দেশের পাঠকরা তেমনটা আমাদের লেখকদের বই পড়েন না বললেই চলে। নতুন হিসেবে আমাকে পাঠকদের চেনার কথা না। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে দূরদূরান্তের বাংলা ভাষাবাসীর পাঠকরা আমার এবং আমার মত নতুনদের বই সম্পর্কে জানতে পারছে। অনলাইন বুক শপ থেকে বই কিনে পড়তে পারছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিড়ম্বনা কম নয়, তবে পাঠকদের ভালবাসাকে শ্রদ্ধা জানাই।

পৃথিবীতে এত বিষয় থাকতে লেখালেখিকে বেছে নিলেন কেন?
ছোট বেলায় যখন দাদীর কাছে ঘুমাতাম তখন দাদীর কাছে থেকে মজার মজার নানা রকমের গল্প শুনতাম। এই গল্পগুলোই আবার ছোট যারা তাদেরকে শুনাতাম। যখন জানা গল্পগুলো শেষ হয়ে যেত, তখন নিজে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতাম। পরে ভাবলাম আমার বানিয়ে গল্প বলার সহজাত ক্ষমতা আছে, সেটা কাজে লাগানো উচিত। এরপর থেকেই আসলেই লেখালেখির শুরু।

লেখালেখির জগতে কারো অনুপ্রেরণা ছিল?
সেইভাবে কারো অনুপ্রেরণা ছিল না, বরং উল্টো অনুপ্রেরণাহীনতায় ভুগেছি। স্কুলে পড়াবস্থায় কবিতা লিখতাম। ছাত্র হিসাবে খুব একটা ভালো ছিলাম না, তাই পরীক্ষায় খারাপ করলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা খুব মজা করতো। কবি বলে আমাকে প্রায়ই রাগান্বিত করার চেষ্টা করতো। যখন স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে কেউ আমার লেখা কবিতা আবৃত্তি করতো তখন মনে হত হতো কিছু লিখতে পারি। পরিচিত অনেকেই বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করতো। তাদের আগের কবিতাগুলো দেখালে একসময় তারাও হাসাহাসি করতো। এরপর টানা সাত বছর লেখালেখি করিনি। কিন্তু এখন যে লেখালেখি করছি তার পুরোটাই পাঠকের জন্যই।

বই পড়ার অভ্যাস বা পরিবেশ তৈরি করতে কি করা উচিত?
লেখার মধ্যে ভালো কন্টেন্ট থাকতে হবে, যা সাধারণ পাঠকদের বই পড়াতে আগ্রহ বাড়াবে। বাবা-মা’র  উচিত সন্তানদের ছোট বেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।

ফিল্মমেকিংয়ের কি অবস্থা, আপনার লেখা উপন্যাসগুলো কি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র আকারে পাবো?
দারিদ্র্য-অর্থাভাব ছিল আমার বেড়ে উঠার সঙ্গী, ফলে লেখা বা ফিল্ম মেকিংয়ের স্বপ্ন দেখাটা ছিল অসম্ভব। বইটা একাই লেখা যায়, কিন্তু ফিল্ম মেকিংয়ের জন্য একটা টিমকে কাজ করতে হয়। ‘বোধ’ নামে একটি নির্বাক শর্টফিল্ম বানিয়েছি, এটি দেশের বাইরে আলোচিত হয়েছে। ‘দ্য শ্যুজ’ শর্টফিল্মের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছি। এরপর থেকেই ফিল্ম বানানোর শখ বেড়ে যায়। ইচ্ছা আছে উপন্যাসগুলো নিয়ে ফিল্ম বানানোর। ‘সত্তা’ ছবির পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল (ভাই) ‘মন্দ ছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন, এই ছবির গল্পটি লিখছি। সম্প্রতি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য মিউজিক্যাল ফিল্ম বানাচ্ছি যেটি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে।

অনেক বলে থাকেন যে আপনার লেখার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের ছোঁয়া আছে, বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
বাংলাদেশে এ প্রজন্মে যারাই ভালো লিখেন, তাদের সবাইকে এই কথাটা শুনতে হয়।  বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন স্যার একটা বড় অংশ দখল করে আছেন। তাই অন্য লেখকদের লেখার মধ্যেও স্যারের লেখাটাও পাঠকরা খুঁজে ফিরে। তবে আমি নিজের লেখা দিয়ে নিজের নামকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি ।

ভবিষ্যতে সাদাত হোসাইনের কোন চাওয়া আছে?
আমার অনেক বড় আক্ষেপ হলো সমকালীন অনেক প্রবীণ লেখকরা আমাদের গ্রহণ বা পৃষ্ঠপোষকতা করতে চান না। আমরা তরুণ লেখকরা চাই একসাথে নিজেরা নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠি। আর এই চর্চায় আমাদের থাকা উচিত। তাহলে সব বাংলা ভাষাবাসী পাঠকরা তরুণ লেখকদের নতুন লেখা পাবে। আমার স্বপ্ন সারা বিশ্বে বাংলা সাহিত্য ছড়িয়ে যাক।

নতুন বই কবে পাচ্ছি?
সামনের বই মেলায় আমার পাঠকরা অনেকগুলো বই পাবেন। তারমধ্যে ‘জলচর’ উপন্যাসটি উল্লেখযোগ্য। দারুন একটি উপন্যাস হবে। এবারই প্রথমবার থ্রিলার গল্পে বই লিখেছি।

আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা শতভাগ সফল: অর্থমন্ত্রী

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা শতভাগ সফল: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশে এখন কোনো ঝুপড়ি ...

বিয়ে নিয়ে যা বললেন লাবণী

বিয়ে নিয়ে যা বললেন লাবণী

বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ...

সৌদি আরব থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরব থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে দেশটিতে ...

ঐক্যফ্রন্ট গঠনে আওয়ামী লীগে ভয় ঢুকেছে: মওদুদ

ঐক্যফ্রন্ট গঠনে আওয়ামী লীগে ভয় ঢুকেছে: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ড. কামাল ...

শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শুক্রবার চোখের জলে ...

শ্রীলংকায় যুবাদের জয়

শ্রীলংকায় যুবাদের জয়

দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ১১৫ রান তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ ...

ঐক্যের নামে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: আইনমন্ত্রী

ঐক্যের নামে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, 'ঐক্যের নামে দেশে নতুন করে ...

বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ২০৪০ সালে হবে ৭৯ বছর

বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ২০৪০ সালে হবে ৭৯ বছর

আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। ...