ব্লাস্ট-সমকাল-সেভ দ্য চিলড্রেন গোলটেবিল বৈঠক

শিশু নির্যাতন বন্ধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

শিশুর অধিকার সুরক্ষায় যথেষ্ট আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ মানুষই জানে না, শিশুদের ওপর নির্যাতন করা হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তিকে অভিভাবক-শিক্ষক সবাই সাধারণ ঘটনা হিসেবেই ধরে নেন। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। শিশুর ওপর যে কোনো ধরনের নির্যাতন বন্ধে সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে শিশু নির্যাতন বন্ধে সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনের কয়েকটি ধারা-বিধান সংশোধন করা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু আইন বিলুপ্ত করে নতুন করে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত 'শিশুর অধিকার সুরক্ষায় শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিরসন' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), সমকাল ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে এর আয়োজন করে। সমকালের উপসম্পাদক আবু সাঈদ খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

কাজী রিয়াজুল হক। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের গবেষণা ও তথ্যায়ন সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাওমি নাজ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ব্লাস্টের ট্রাস্টি আইনজীবী জেড আই খান পান্না, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের শিশু অধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট নুরুন নাহার ওসমানী, ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 'নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক ড. আবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরাফাত হোসন খান, ব্লাস্টের উপদেষ্টা মো. মাসুদ করিম, সিএএমপিইর ডিপিএম রেহানা বেগম, আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কাউন্সেলর নাসিমা আকতার, আইনজীবী আবু ওবায়দুর রহমান, আইআইডির সিইও সাঈদ আহমেদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তার।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ২০১০ সালে ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নেয়। এ উদ্যোগ পথ দেখাতে সহায়তা করে। কিন্তু বাস্তবতা- সরকার এর সদ্ব্যবহার করেনি। এ কারণেই শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে আদালতের দেওয়া যুগান্তকারী রায়ের পরও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হয়। শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি নিয়ে আবারও বসতে হয়; নতুন করে দাবি তুলতে হয়। এটা সত্যিই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, শিশুদের ওপর যে কোনো ধরনের নির্যাতন শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তবে একটা কথা বলতেই হয়, শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারের যথেষ্ট কর্মপরিকল্পনা, আইনও রয়েছে। শিশু নীতিমালার মধ্যে সব বিষয়ই স্পষ্ট করে বলা আছে। শুধু সমন্বয়ের অভাবে এর কার্যকারিতা খুব বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ মুহূর্তে শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মনে করেন, দেশে এমন কিছু আইন রয়েছে, যার প্রয়োজন নেই। তাই আইনের কিছু সংশোধন, প্রয়োজনে বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী আইন করা যায়। শিশু নির্যাতনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চবিত্ত ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের খুব একটা নির্যাতিত হতে দেখা যায় না। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে শিশু নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে। তাই এসব পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে শিশুদের মা-বাবাকে যদি শিশু নির্যাতনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা যায়, তবেই নির্যাতন কমানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের অভিযোগ এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের সূত্র ধরে কমিশন শিশু নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত করে। অতীতে সংশ্নিষ্ট এলাকার পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তদন্ত করলেও বর্তমানে কমিশন নিজ উদ্যোগে এসব ঘটনার তদন্ত করবে। কমিশনের আইনগত ক্ষমতা, বিভিন্ন এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বড় একটা অংশ শিশু। তারা যাতে কোনোভাবেই নির্যাতিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব শিশুকে যেন কোনোভাবেই বাংলা শেখানো না হয়, সে বিষয়েও সংশ্নিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

জেড আই খান পান্না বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছাত্রীরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের যৌন নির্যাতনও করা হয়। বিষয়টি তারা কারও কাছেই প্রকাশ করতে পারে না। এটা তাদের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের জন্য অধিকাংশ সময়ই সব দোষ রাষ্ট্রের ওপর চাপানো হয়। তবে এর দায় দেশের জনগণেরও রয়েছে। তিনি শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে তা প্রচার জরুরি বলে মনে করেন। পাশাপাশি শিশু নির্যাতন করা হলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষের মধ্যে প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রবীণ এই আইনজীবী মনে করেন, শিক্ষার্থীদের বইখাতার পেছনে একটি হটলাইন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। তাহলে সেখানে যোগাযোগ করে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর চলা নির্যাতনের কথা জানাতে পারবে।

কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, স্কুলের তুলনায় মাদ্রাসাগুলোয় শিশুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র ভয়াবহ। সেখানে শিশুদের শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, খাবারও খেতে দেওয়া হয় না। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শৈশবে বাবার ইচ্ছায় মাদ্রাসায় গেলেও শুধু শিক্ষকদের নির্যাতনের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। সে সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি তিনি দীর্ঘদিনেও ভুলতে পারেননি। প্রবীণ এ শিক্ষক বলেন, দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লক্ষাধিক স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধের এ উদ্যোগ তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ কাজ নয়। তবে যে কোনো উপায়ে তা করা জরুরি। খুব সহজ উপায়ে শিক্ষক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছানো সম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে, তাদের চিহ্নিত করে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের স্বার্থে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

নুরুন নাহার ওসমানী বলেন, অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় ব্রোকেন পরিবারের সন্তানরা অপরাধী হয়। তাই একজন সন্তানের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা পুরোপুরি নির্ভর করে মা-বাবার ওপর। তারা সচেতন হলে অবশ্যই তাদের শিশু সব ধরনের নির্যাতন থেকে মুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন হয় তা সত্য। তবে ওই নির্যাতনে কেউ মারা গেছে, এমন তথ্য নেই। বর্তমান সময়ে সামাজিক নানান সংঘাতে শিশু-কিশোরদের হাতে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে; যা সমাজের জন্য এলার্মিং। এসব বন্ধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। বিলবোর্ডে শিশু নির্যাতনের সাজার তথ্য প্রচার করতে হবে।

ড. আবুল হোসেন বলেন, দেশের বিদ্যমান আইনে শিশুর ওপর যে কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এখন এসব আইনের প্রয়োগ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, একটা সময় পরিবারে শিশুরা নির্যাতিত হতো। আর এখন বন্ধুদের দ্বারা হচ্ছে। তা অবশ্যই সবার জন্য উদ্বেগজনক। সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন, সার্কুলারসহ যা কিছু আছে তা একটা পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু এসব মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আর এর জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এসএম রেজাউল করিম বলেন, শিশু নির্যাতন বন্ধে যথেষ্ট আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতাও বাড়াতে হবে।

মাসুদ করিম বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিক্ষকদের আচরণ অনেক রৃঢ়। তাই শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে সবার আগে শিক্ষকদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আবু ওবায়দুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে পুরো স্কুল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তারা শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবককে নানাভাবে হয়রানিও করে। অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও হয়রানি হতে হয়। শিশু নির্যাতন বন্ধে নজরদারির বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাঈদ আহমেদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রচারের অভাবে ভালো উদ্যোগ কাজে আসে না। তাই শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে শিক্ষকদের সঙ্গে এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, যা তাদের আত্মসম্মানে লাগে এবং হীতে বিপরীত হয়।

নাসিমা আকতার বলেন, শৈশবে মানুষ যা দেখে, যা শুনে তা থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বের হতে পারে না। অনেক অভিভাবক নিজেরা শৈশবে অতিরিক্ত শাসনে, নির্যাতিত হয়ে বেড়ে ওঠার কারণে এটাকে স্বাভাবিক ঘটনা মনে করেন। সে অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে।

জামিউল হক ফয়সাল বলেন, এ বিষয়ক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দিতে হবে। মানবাধিকার কমিশন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সুপারিশ পাঠালে মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে বলেও তিনি মনে করেন।

রেহানা বেগম বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বড় ক্ষেত্র তার মা-বাবাই সৃষ্টি করেন। শিক্ষক যখন শিশুকে শারীরিক নির্যাতন করেন, তখন তারা 'বাহবা' দেন। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধের বার্তা, ডকুমেন্টারি করে গণসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মাহমুদা আফরোজা লাকী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় 'কমপ্লেইন বক্স' রাখা প্রয়োজন। কারণ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাসে অন্তত একবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক, একই সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়েও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। এ ছাড়া পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অভিযোগ জানাতে পারেন। 'পুলিশ উইম্যানস নেটওয়ার্কে'র মাধ্যমেও এ ধরনের সচেতনতার কাজ করতে পারি।

রাশেদা আক্তার বলেন, পরিবার একটি বড় প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকেই শিশুরা তৈরি হয়। তাই ইতিবাচক শৃঙ্খলার চর্চা পরিবার থেকেই শেখাতে হবে। তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'অভিযোগ বক্স' রাখার দাবি জানান।

মূল প্রবন্ধে নাওমি নাজ চৌধুরী বলেন, মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে ব্ল্যাস্ট সমন্বিতভাবে শিশু নির্যাতন বন্ধে নজরদারির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্নিষ্টদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। মূলত এ কারণেই নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানান, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির সপক্ষে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনগুলো সংশোধন ও অপ্রয়োজনীয় ধারা বাতিলের লক্ষ্যে সুপারিশ সংবলিত একটি স্মারকলিপি ২০১২ সালে আইন কমিশনে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে আইন কমিশন এ-সংক্রান্ত সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বৈঠকে নাওমি নাজ চৌধুরী শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর গঠন, পুরনো আইন বাতিল করে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নসহ কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বৈঠকের শুরুতে আবু সাঈদ খান বলেন, দেশের মানুষ শিশুদের শাস্তি দেওয়ার পক্ষে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধারণা দীর্ঘদিন ধরে পোষণ করে আসছে। তারা মনে করে- শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শাস্তি দিতে হবে। তবে এখন এ দৃশ্য অনেকটাই পাল্টেছে। সন্তোষজনক না হলেও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন অনেক কমেছে। তবে নির্যাতনের অনেক বড় একটা দিক হচ্ছে, দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার। মূলত এই নাজুক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন করা হয়। যেখানে আইনের শাসন বিঘ্নিত হয়। শিশুর নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে হলে সমন্বিত কর্মসূচি প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিএনপি নেতারা যে কারণে সেনাকুঞ্জে গেলেন না

বিএনপি নেতারা যে কারণে সেনাকুঞ্জে গেলেন না

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ...

৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ

৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ

বিশেষ ব্যবস্থায় পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়ার কারণে ব্যাংক খাতে ...

এসিআর বিড়ম্বনায় অধস্তন আদালতের বিচারকরা

এসিআর বিড়ম্বনায় অধস্তন আদালতের বিচারকরা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন দিতে ...

 আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরেই যত সমীকরণ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরেই যত সমীকরণ

চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য ...

 রাজনীতিতে কিছুই নাকচ করা যায় না

রাজনীতিতে কিছুই নাকচ করা যায় না

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নির্বাচনী ...

সাকিবদের হারালেন মাশরাফিরা

সাকিবদের হারালেন মাশরাফিরা

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। শেষ ...

রংপুরে বিএনপির প্রার্থী বাবলা, স্বতন্ত্র এরশাদের ভাতিজা

রংপুরে বিএনপির প্রার্থী বাবলা, স্বতন্ত্র এরশাদের ভাতিজা

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কাওসার ...

ব্যবসায়ীকে অপহরণে অভিযুক্ত দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবসায়ীকে অপহরণে অভিযুক্ত দুই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ...